ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জেনিভা উৎসবে ‘ফিউচার ইজ সেন্সিবল’ সম্মাননা পেল ‘অ্যানি’ Logo ‘আরব দলগুলো ইসরায়েলকে ধ্বংস করবে’, ঐক্য সরকার গড়ার ডাক নেতানিয়াহুর Logo মালদ্বীপকে উড়িয়ে সেমি-ফাইনালে পাকিস্তান Logo স্বপ্নের শুরু রূপ নিয়েছে দুঃস্বপ্নে, মারেস্কা বললেন, ‘ভয়ের কিছু নেই’ Logo শীতের শাকসবজিতে মিলবে পুষ্টি, কমবে দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি Logo ডেঙ্গু রোধে ঢাকা দক্ষিণের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ২৯ ওয়ার্ডে অভিযান শুরু Logo ‘২০২৯ সালের ভোটেই মোদী সরকারের বিদায় নিশ্চিত’, ভবিষ্যদ্বাণী ককরোচ প্রধানের Logo ‘পরাজিত ব্যক্তি’ বলায় রেগে ব্রিফিং ছাড়লেন ট্রাম্প Logo রংপুরে ১৭শ ইয়াবাসহ তরুণী গ্রেপ্তার Logo ৪০ বছরের তলানিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় কি ইউক্রেইনের পালে হাওয়া দেবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বড় জয়ের ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেইনের জন্য নতুন করে সহায়তার আশা তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে মার্কিন সহায়তা কমতে শুরু করলেও ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউক্রেইনের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে বলে দলটির শীর্ষ সহযোগীরা জানিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতার মুখে এই সহায়তা কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় এখনও কাটেনি। প্রেসিডেন্টের ভিটো ক্ষমতা এবং কংগ্রেসকে এড়িয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অতীত রেকর্ড থাকায় পরিস্থিতি জটিল রয়ে গেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে কংগ্রেসে ইউক্রেইনের জন্য কোনো বড় বিল পাস হয়নি এবং অনেক ক্ষেত্রে সহায়তা আটকে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে ডেমোক্র্যাট নেতারা জানান, ইউক্রেইনের জন্য জীবন রক্ষাকারী তহবিল নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। সেনেটের ইউক্রেইন ককাসের প্রতিষ্ঠাতা ডিক ডারবিন মন্তব্য করেছেন যে ট্রাম্প প্রশাসন এই সহায়তা প্রদানে গড়িমসি করছে এবং আইন মানাতে তারা বিকল্প পথ খুঁজবেন। অন্যদিকে হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এই যুদ্ধের একটি শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি চান এবং অনর্থক প্রাণহানি বন্ধে তার প্রশাসন কাজ করছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে প্রেসিডেন্টের ব্যাপক নির্বাহী ক্ষমতা থাকায় বিরোধীদের জন্য ট্রাম্পের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সহজ নয়।

প্রেসিডেন্টের এই নির্বাহী ক্ষমতার প্রভাব মোকাবিলায় ডেমোক্র্যাটরা বাজেট বিল বা প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে ইউক্রেনীয় সহায়তা ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার ধারা যুক্ত করার কৌশল নিতে পারে। এছাড়া বাজেট সংক্রান্ত সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ, তদন্ত শুরু করা এবং ট্রাম্পের মনোনীত কর্মকর্তাদের নিয়োগ আটকে দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনকে চাপে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ইতিমধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্ত কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণের নির্দেশ পাঠিয়েছেন। ইউক্রেনীয় আইনপ্রণেতা ডেভিড আরাখামিয়া মনে করেন, ডেমোক্র্যাটদের এই জয়ের ফলে মার্কিন সামরিক ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে আগামী বছরের আগে এই নতুন সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় কিইভকে অত্যন্ত কঠিন একটি শীতকাল পার করতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়ার সঙ্গে আসন্ন ত্রিপক্ষীয় আলোচনা থেকে ইতিবাচক ফল পেতে চাইছে ইউক্রেইন। এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বা লেগ্যাসি রক্ষায় বেশি মনোযোগী থাকায় কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত সবসময় তার ওপর প্রভাব ফেলে না। অতীতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাস হওয়া নিষেধাজ্ঞা মওকুফ করা এবং সম্প্রতি রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির চুক্তি করায় ট্রাম্প প্রশাসন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় মহলেরই সমালোচনার মুখে পড়েছে।

জনপ্রিয়

জেনিভা উৎসবে ‘ফিউচার ইজ সেন্সিবল’ সম্মাননা পেল ‘অ্যানি’

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় কি ইউক্রেইনের পালে হাওয়া দেবে?

প্রকাশিত ০৬:০৭:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বড় জয়ের ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেইনের জন্য নতুন করে সহায়তার আশা তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে মার্কিন সহায়তা কমতে শুরু করলেও ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউক্রেইনের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে বলে দলটির শীর্ষ সহযোগীরা জানিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতার মুখে এই সহায়তা কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় এখনও কাটেনি। প্রেসিডেন্টের ভিটো ক্ষমতা এবং কংগ্রেসকে এড়িয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অতীত রেকর্ড থাকায় পরিস্থিতি জটিল রয়ে গেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে কংগ্রেসে ইউক্রেইনের জন্য কোনো বড় বিল পাস হয়নি এবং অনেক ক্ষেত্রে সহায়তা আটকে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে ডেমোক্র্যাট নেতারা জানান, ইউক্রেইনের জন্য জীবন রক্ষাকারী তহবিল নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। সেনেটের ইউক্রেইন ককাসের প্রতিষ্ঠাতা ডিক ডারবিন মন্তব্য করেছেন যে ট্রাম্প প্রশাসন এই সহায়তা প্রদানে গড়িমসি করছে এবং আইন মানাতে তারা বিকল্প পথ খুঁজবেন। অন্যদিকে হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এই যুদ্ধের একটি শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি চান এবং অনর্থক প্রাণহানি বন্ধে তার প্রশাসন কাজ করছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে প্রেসিডেন্টের ব্যাপক নির্বাহী ক্ষমতা থাকায় বিরোধীদের জন্য ট্রাম্পের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সহজ নয়।

প্রেসিডেন্টের এই নির্বাহী ক্ষমতার প্রভাব মোকাবিলায় ডেমোক্র্যাটরা বাজেট বিল বা প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে ইউক্রেনীয় সহায়তা ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার ধারা যুক্ত করার কৌশল নিতে পারে। এছাড়া বাজেট সংক্রান্ত সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ, তদন্ত শুরু করা এবং ট্রাম্পের মনোনীত কর্মকর্তাদের নিয়োগ আটকে দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনকে চাপে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ইতিমধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্ত কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণের নির্দেশ পাঠিয়েছেন। ইউক্রেনীয় আইনপ্রণেতা ডেভিড আরাখামিয়া মনে করেন, ডেমোক্র্যাটদের এই জয়ের ফলে মার্কিন সামরিক ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে আগামী বছরের আগে এই নতুন সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় কিইভকে অত্যন্ত কঠিন একটি শীতকাল পার করতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়ার সঙ্গে আসন্ন ত্রিপক্ষীয় আলোচনা থেকে ইতিবাচক ফল পেতে চাইছে ইউক্রেইন। এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বা লেগ্যাসি রক্ষায় বেশি মনোযোগী থাকায় কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত সবসময় তার ওপর প্রভাব ফেলে না। অতীতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাস হওয়া নিষেধাজ্ঞা মওকুফ করা এবং সম্প্রতি রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির চুক্তি করায় ট্রাম্প প্রশাসন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় মহলেরই সমালোচনার মুখে পড়েছে।