ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গু রোধে ঢাকা দক্ষিণের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ২৯ ওয়ার্ডে অভিযান শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট: এইডিস মশার বিস্তার রোধ এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জরিপে চিহ্নিত অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার প্রাঙ্গণে এই বিশেষ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। সাম্প্রতিক বর্ষাকালীন এডিস লার্ভা জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তালুকদার এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান উপস্থিত ছিলেন।

ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিরূপণ ও মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করতে বিগত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ৭৫টি ওয়ার্ডের দুই হাজার আড়াইশ বাড়িতে এই লার্ভা জরিপ পরিচালিত হয়। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বহুতল ভবন, সেমিপাকা ঘর, স্বতন্ত্র বাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনসহ মোট তিনশ বাইশটি বাড়িতে মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্লাস্টিক বালতিতে সর্বাধিক প্রায় চৌদ্দ শতাংশ, প্লাস্টিক ড্রামে এগারো শতাংশ এবং বেইজমেন্টের জমে থাকা পানিতে প্রায় দশ শতাংশ লার্ভা শনাক্ত হয়। এছাড়া প্লাস্টিক মগ ও ফুলের টবেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে বলে জরিপে উঠে আসে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক আবদুস সালাম জানান যে কেবল সিটি করপোরেশনের এক পক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় এবং এক্ষেত্রে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি নগরবাসীকে নিজেদের বাসা-বাড়ি, ছাদ, বারান্দা ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়ে পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দেন। নাগরিকদের সচেতনতার মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থাতেই অর্ধেকের বেশি এইডিস মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। নির্দিষ্ট এই চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে এলাকার ড্রেন, খাল, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং বর্জ্য অপসারণের কাজ জোরালো করা হয়েছে।

অভিযানের আওতায় নিবিড়ভাবে লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থলগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়গুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর পাশাপাশি মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে এই যৌথ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানানো হয়। এরপরও যদি কোথাও এইডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়, তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

শীতের শাকসবজিতে মিলবে পুষ্টি, কমবে দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি

ডেঙ্গু রোধে ঢাকা দক্ষিণের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ২৯ ওয়ার্ডে অভিযান শুরু

প্রকাশিত ০৫:৫২:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: এইডিস মশার বিস্তার রোধ এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জরিপে চিহ্নিত অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার প্রাঙ্গণে এই বিশেষ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। সাম্প্রতিক বর্ষাকালীন এডিস লার্ভা জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তালুকদার এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান উপস্থিত ছিলেন।

ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিরূপণ ও মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করতে বিগত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ৭৫টি ওয়ার্ডের দুই হাজার আড়াইশ বাড়িতে এই লার্ভা জরিপ পরিচালিত হয়। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বহুতল ভবন, সেমিপাকা ঘর, স্বতন্ত্র বাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনসহ মোট তিনশ বাইশটি বাড়িতে মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্লাস্টিক বালতিতে সর্বাধিক প্রায় চৌদ্দ শতাংশ, প্লাস্টিক ড্রামে এগারো শতাংশ এবং বেইজমেন্টের জমে থাকা পানিতে প্রায় দশ শতাংশ লার্ভা শনাক্ত হয়। এছাড়া প্লাস্টিক মগ ও ফুলের টবেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে বলে জরিপে উঠে আসে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক আবদুস সালাম জানান যে কেবল সিটি করপোরেশনের এক পক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় এবং এক্ষেত্রে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি নগরবাসীকে নিজেদের বাসা-বাড়ি, ছাদ, বারান্দা ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়ে পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দেন। নাগরিকদের সচেতনতার মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থাতেই অর্ধেকের বেশি এইডিস মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। নির্দিষ্ট এই চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে এলাকার ড্রেন, খাল, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং বর্জ্য অপসারণের কাজ জোরালো করা হয়েছে।

অভিযানের আওতায় নিবিড়ভাবে লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থলগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়গুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর পাশাপাশি মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে এই যৌথ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানানো হয়। এরপরও যদি কোথাও এইডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়, তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।