ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

সাইবেরীয় সমাধি বলছে ২৮০০ বছর আগেও গাঁজার প্রচলন ছিল

ডেস্ক রিপোর্ট: রাশিয়ার সুদূর ত্যভা প্রজাতন্ত্রের একটি প্রাচীন স্কিথিয়ান সমাধিসৌধ থেকে প্রায় ২৮০০ বছর আগে মাদক উপাদান হিসেবে গাঁজা ব্যবহারের সবচেয়ে প্রাচীন প্রমাণ আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ সাইবেরিয়ার প্রায় ৪৬০ ফুট ব্যাসওয়ালার এই বিশাল সমাধিটি ছিল সে সময়ের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের শেষ শয়নস্থল, যা বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে। প্রাচীন স্কিথিয়ান সংস্কৃতির ইতিহাসজুড়ে ইউরেশীয় তৃণভূমিতে ঘোড়ার পিঠে যুদ্ধকৌশল ও স্বর্ণশিল্পের বিশেষ খ্যাতি ছিল। উদ্ভিদের অংশবিশেষ দ্রুত পচনশীল হওয়ায় অতীতে এর ব্যবহারের সঠিক ইতিহাস উদঘাটন করা গবেষকদের জন্য বেশ কঠিন ছিল।

গবেষণাটির প্রধান লেখক ও প্রত্নতত্ত্ববিদ জিনো কাসপারি জানিয়েছেন যে, অতীতে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার নিয়ে অনেক জল্পনা থাকলেও নির্দিষ্ট উদ্ভিদ সেবনের কংক্রিট প্রমাণ পাওয়া অত্যন্ত বিরل। উদ্ভিদের অবশিষ্টাংশ ও নরম টিস্যু দীর্ঘকাল টিকে না থাকায় উভয়ের অবিকৃতভাবে সংরক্ষিত থাকার ঘটনা খুবই দুর্লভ। এই গবেষণায় সমাধির ভেতর থেকে ১ হাজার ৪০০টিরও বেশি অবিকৃত গাঁজার বীজ উদ্ধার করা হয়েছে। আধুনিক বৈজ্ঞানিক ডেটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে এগুলো খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীর প্রথমার্ধের।

প্রধান গবেষক জিনো কাসপারি আরও উল্লেখ করেছেন যে, জীবিত মানুষের কাছে যেসব জিনিস মূল্যবান ছিল, পরকালের অর্ঘ্য হিসেবে সেগুলোই সমাধিক্ষেত্রে দিয়ে দেওয়া হতো। মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার প্রাচীন প্রমাণগুলোর চেয়েও এই সাইবেরীয় আবিষ্কারটি বেশ পুরনো। সমাধিকক্ষে সংরক্ষিত বেশ কয়েকজন মানুষের মরদেহের বেণী করা চুল রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে ক্যানাবিসের প্রধান সাইকোঅ্যাকটিভ উপাদান ‘টিএইচসি’ ও ‘ক্যানাবিনল’-এর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। আধুনিক ডোপ টেস্ট যেভাবে কাজ করে, ঠিক তেমনি মানুষের দেহ টিএইচসি ও সিবিডির মতো অণুগুলোকে চুলে জমা করে রাখে।

বিশালাকার এই সমাধিসৌধটি লার্চ কাঠের কড়িকাঠ, কাদা মাটি ও হাজার হাজার টন পাথর দিয়ে নির্মিত হয়েছিল। এর ভেতরে প্রাচীন স্কিথিয়ান ধাঁচের শিল্পকর্ম, বিরল স্বর্ণালঙ্কার এবং নরবলি ও ঘোড়া বলির আচারের নিদর্শন পাওয়া গেছে। গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাসের বর্ণনার সঙ্গে এই ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষের মিল খুঁজে পাওয়ায় স্তেপ অঞ্চলের মানুষদের সম্পর্কে তার বিবরণ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া, আবিষ্কৃত বীজগুলো থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বে প্রাপ্ত সবচেয়ে প্রাচীন ক্যানাবিস ডিএনএ সিকোয়েন্সিং শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা।

এই অভূতপূর্ব আবিষ্কার মানবসভ্যতার প্রাচীন মাদক ব্যবহারের হাজার বছরের রহস্য উন্মোচন করেছে। প্রাচীন সংস্কৃতির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আচার ও মাদক ব্যবহারের অজানা ইতিহাস জানতে এই গবেষণা নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে আগামী বছরগুলোতে এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদের ইতিহাস ও চাষাবাদের প্রাচীন ধারা আরও স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয়

ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দেয়া হবে একে একে

সাইবেরীয় সমাধি বলছে ২৮০০ বছর আগেও গাঁজার প্রচলন ছিল

প্রকাশিত ০৫:০৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: রাশিয়ার সুদূর ত্যভা প্রজাতন্ত্রের একটি প্রাচীন স্কিথিয়ান সমাধিসৌধ থেকে প্রায় ২৮০০ বছর আগে মাদক উপাদান হিসেবে গাঁজা ব্যবহারের সবচেয়ে প্রাচীন প্রমাণ আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ সাইবেরিয়ার প্রায় ৪৬০ ফুট ব্যাসওয়ালার এই বিশাল সমাধিটি ছিল সে সময়ের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের শেষ শয়নস্থল, যা বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে। প্রাচীন স্কিথিয়ান সংস্কৃতির ইতিহাসজুড়ে ইউরেশীয় তৃণভূমিতে ঘোড়ার পিঠে যুদ্ধকৌশল ও স্বর্ণশিল্পের বিশেষ খ্যাতি ছিল। উদ্ভিদের অংশবিশেষ দ্রুত পচনশীল হওয়ায় অতীতে এর ব্যবহারের সঠিক ইতিহাস উদঘাটন করা গবেষকদের জন্য বেশ কঠিন ছিল।

গবেষণাটির প্রধান লেখক ও প্রত্নতত্ত্ববিদ জিনো কাসপারি জানিয়েছেন যে, অতীতে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার নিয়ে অনেক জল্পনা থাকলেও নির্দিষ্ট উদ্ভিদ সেবনের কংক্রিট প্রমাণ পাওয়া অত্যন্ত বিরل। উদ্ভিদের অবশিষ্টাংশ ও নরম টিস্যু দীর্ঘকাল টিকে না থাকায় উভয়ের অবিকৃতভাবে সংরক্ষিত থাকার ঘটনা খুবই দুর্লভ। এই গবেষণায় সমাধির ভেতর থেকে ১ হাজার ৪০০টিরও বেশি অবিকৃত গাঁজার বীজ উদ্ধার করা হয়েছে। আধুনিক বৈজ্ঞানিক ডেটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে এগুলো খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীর প্রথমার্ধের।

প্রধান গবেষক জিনো কাসপারি আরও উল্লেখ করেছেন যে, জীবিত মানুষের কাছে যেসব জিনিস মূল্যবান ছিল, পরকালের অর্ঘ্য হিসেবে সেগুলোই সমাধিক্ষেত্রে দিয়ে দেওয়া হতো। মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার প্রাচীন প্রমাণগুলোর চেয়েও এই সাইবেরীয় আবিষ্কারটি বেশ পুরনো। সমাধিকক্ষে সংরক্ষিত বেশ কয়েকজন মানুষের মরদেহের বেণী করা চুল রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে ক্যানাবিসের প্রধান সাইকোঅ্যাকটিভ উপাদান ‘টিএইচসি’ ও ‘ক্যানাবিনল’-এর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। আধুনিক ডোপ টেস্ট যেভাবে কাজ করে, ঠিক তেমনি মানুষের দেহ টিএইচসি ও সিবিডির মতো অণুগুলোকে চুলে জমা করে রাখে।

বিশালাকার এই সমাধিসৌধটি লার্চ কাঠের কড়িকাঠ, কাদা মাটি ও হাজার হাজার টন পাথর দিয়ে নির্মিত হয়েছিল। এর ভেতরে প্রাচীন স্কিথিয়ান ধাঁচের শিল্পকর্ম, বিরল স্বর্ণালঙ্কার এবং নরবলি ও ঘোড়া বলির আচারের নিদর্শন পাওয়া গেছে। গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাসের বর্ণনার সঙ্গে এই ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষের মিল খুঁজে পাওয়ায় স্তেপ অঞ্চলের মানুষদের সম্পর্কে তার বিবরণ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া, আবিষ্কৃত বীজগুলো থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বে প্রাপ্ত সবচেয়ে প্রাচীন ক্যানাবিস ডিএনএ সিকোয়েন্সিং শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা।

এই অভূতপূর্ব আবিষ্কার মানবসভ্যতার প্রাচীন মাদক ব্যবহারের হাজার বছরের রহস্য উন্মোচন করেছে। প্রাচীন সংস্কৃতির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আচার ও মাদক ব্যবহারের অজানা ইতিহাস জানতে এই গবেষণা নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে আগামী বছরগুলোতে এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদের ইতিহাস ও চাষাবাদের প্রাচীন ধারা আরও স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব হবে।