ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নূর মোহাম্মদের ওপর ফের ছাত্রদলের হামলা Logo সারাদিন নিরবচ্ছিন্ন পাওয়ার নিশ্চিতে নতুন সি-সিরিজ স্মার্টফোন নিয়ে আসছে রিয়েলমি Logo ছাত্রদলের হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে গিয়ে ন্যাশনাল মেডিকেলের কিচেনে অবরুদ্ধ জবি অধ্যাপক ড. বেলাল Logo ২৬০ শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ৪ শিক্ষক: ধুঁকে ধুঁকে চলছে পাবিপ্রবির সমাজকর্ম বিভাগ Logo ছাত্রদল নেতা সুমন সরদারের নেতৃত্বে জবি রিপোর্টার্স ইউনিটি দখলের চেষ্টা Logo ইসলামী ছাত্র আন্দোলন কুবি শাখার সভাপতি ইফতি সাধারণ সম্পাদক শাওন Logo ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে কবি নজরুল কলেজের উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত Logo বাকৃবিতে আবাসিক হলে পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় জোড়া তদন্ত কমিটি গঠন Logo হুট করে বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন নোবিপ্রবি উপাচার্যের Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রশাসনের সাথে কবি নজরুল কলেজ শিক্ষার্থীদের মতবিনিময়

জাবিতে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ১৮তম প্রয়াণ দিবস পালিত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ যথাযোগ্য মর্যাদায় নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ১৮তম প্রয়াণ দিবস পালন করেছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক দিবসটির কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন,“অধ্যাপক সেলিম আল দীন আমাদের জাতির গর্ব। নাট্যকলার যে একাডেমিক গুরুত্ব, তা তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সারাদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। পাশ্চাত্য নাট্যধারার অনুকরণ থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব সংস্কৃতি ও শিকড়কে কীভাবে শিল্পে রূপ দিতে হয়।তিনি তাঁর সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে তা দেখিয়ে গেছেন।”

প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সকালে পুরাতন কলা ভবন থেকে একটি স্মরণযাত্রা শুরু হয়ে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের সমাধি প্রাঙ্গণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার, অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. ইফসুফ হাসান অর্ক এবং সেলিম আল দীনের ১৯তম প্রয়াণ দিবস উদযাপন পর্ষদ ২০২৬-এর সদস্যবৃন্দসহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার বলেন, “হাজার বছরের বাংলা নাট্যধারার ভেতর সেলিম আল দীন যেমন শিল্পের মূল সূত্র সন্ধান করেছেন, তেমনি নাট্যরীতির আঙ্গিককে ভেঙে নতুন সৃজনপথ নির্মাণ করেছেন। তাঁর নাটকে এই জনপদের জীবন উঠে এসেছে এক মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ এই শেকড়মুখী ও নিরীক্ষাধর্মী নাট্যকারকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে-যাঁর হাত ধরেই এ বিভাগের জন্ম, এবং যাঁর শিল্পচিন্তা আজও আমাদের নিরন্তর প্রেরণার উৎস।”

এছাড়াও সেলিম আল দীনের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে ঢাকা থিয়েটার, গ্রাম থিয়েটার, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, অফিসার সমিতি, আরশিনগর, স্বপ্নদল থিয়েটার, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্র, পুতুল নাট্য গবেষণা কেন্দ্র, অন্বিতা–সেলিম আল দীন বিদ্যাপীঠ, কাকতাড়ুয়া পাপেট, বুনন থিয়েটার, শহীদ টিটু থিয়েটারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পী ও কলাকুশলীরা।

পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে পুরাতন কলা ভবনে ‘সেলিম আল দীন ও বাংলা নাট্যের বিঔপনিবেশিক আত্মপরিচয়’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রবন্ধ পাঠ করেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. ইফসুফ হাসান অর্ক এবং দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ নিজার। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুন অর রশীদ খান।

উল্লেখ্য, নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজীতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর উদ্যোগেই ১৯৮৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের যাত্রা শুরু হয় এবং তিনিই ছিলেন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

জনপ্রিয়

জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নূর মোহাম্মদের ওপর ফের ছাত্রদলের হামলা

জাবিতে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ১৮তম প্রয়াণ দিবস পালিত

প্রকাশিত ১১:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ যথাযোগ্য মর্যাদায় নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ১৮তম প্রয়াণ দিবস পালন করেছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক দিবসটির কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন,“অধ্যাপক সেলিম আল দীন আমাদের জাতির গর্ব। নাট্যকলার যে একাডেমিক গুরুত্ব, তা তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সারাদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। পাশ্চাত্য নাট্যধারার অনুকরণ থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব সংস্কৃতি ও শিকড়কে কীভাবে শিল্পে রূপ দিতে হয়।তিনি তাঁর সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে তা দেখিয়ে গেছেন।”

প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সকালে পুরাতন কলা ভবন থেকে একটি স্মরণযাত্রা শুরু হয়ে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের সমাধি প্রাঙ্গণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার, অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. ইফসুফ হাসান অর্ক এবং সেলিম আল দীনের ১৯তম প্রয়াণ দিবস উদযাপন পর্ষদ ২০২৬-এর সদস্যবৃন্দসহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার বলেন, “হাজার বছরের বাংলা নাট্যধারার ভেতর সেলিম আল দীন যেমন শিল্পের মূল সূত্র সন্ধান করেছেন, তেমনি নাট্যরীতির আঙ্গিককে ভেঙে নতুন সৃজনপথ নির্মাণ করেছেন। তাঁর নাটকে এই জনপদের জীবন উঠে এসেছে এক মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ এই শেকড়মুখী ও নিরীক্ষাধর্মী নাট্যকারকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে-যাঁর হাত ধরেই এ বিভাগের জন্ম, এবং যাঁর শিল্পচিন্তা আজও আমাদের নিরন্তর প্রেরণার উৎস।”

এছাড়াও সেলিম আল দীনের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে ঢাকা থিয়েটার, গ্রাম থিয়েটার, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, অফিসার সমিতি, আরশিনগর, স্বপ্নদল থিয়েটার, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্র, পুতুল নাট্য গবেষণা কেন্দ্র, অন্বিতা–সেলিম আল দীন বিদ্যাপীঠ, কাকতাড়ুয়া পাপেট, বুনন থিয়েটার, শহীদ টিটু থিয়েটারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পী ও কলাকুশলীরা।

পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে পুরাতন কলা ভবনে ‘সেলিম আল দীন ও বাংলা নাট্যের বিঔপনিবেশিক আত্মপরিচয়’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রবন্ধ পাঠ করেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. ইফসুফ হাসান অর্ক এবং দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ নিজার। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুন অর রশীদ খান।

উল্লেখ্য, নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজীতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর উদ্যোগেই ১৯৮৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের যাত্রা শুরু হয় এবং তিনিই ছিলেন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।