ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo মিলাদুন্নবীতে দুই সংগঠনকে আমন্ত্রণ না দেয়ার অভিযোগ কবি নজরুল কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে Logo কবি নজরুল কলেজে ঈদ-ই মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল Logo কুবির হলে জুনিয়র শিক্ষার্থীকে রাতভর র‍্যাগিং, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ Logo কচুয়ায় মঘিয়া ইউনিয়ন আন্তঃ ওয়ার্ড ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী Logo পরিক্ষায় নকল করায় এক বছরের জন্য বহিষ্কার রাবির সিনেট সদস্য আকিল Logo পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ ৫ দফা দাবি শিবিরের Logo বিডিঅ্যাপসের সর্বকনিষ্ঠ ডেভেলপার ১১ বছরের যমজ ভাই তানভীর-তাফসীর Logo অর্থনীতিতে অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান ও বিদ্যুৎ অপচয়ের মিথ নিয়ে জাবিতে আলোচনা সভা Logo নিরাপদ ডিজিটাল পেমেন্ট এবং কার্যকর মূলধন ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করবে Logo গোবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান

মিলাদুন্নবীতে দুই সংগঠনকে আমন্ত্রণ না দেয়ার অভিযোগ কবি নজরুল কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল সরকারি কলেজে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাতমূলক ও বৈষম্যমূলক’ আচরণের অভিযোগ তুলেছে কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন দুটি কলেজ প্রশাসনের এমন পক্ষপাতমূলক ও বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

কবি নজরুল কলেজ শাখা ​ছাত্র অধিকার পরিষদ এক বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ তুলে জানান, পবিত্র মিলাদুন্নবী (সা.)-এর অনুষ্ঠানে কোনো নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে বিশেষ সুবিধা প্রদান, দাওয়াত দেওয়া কিংবা অন্য সংগঠনকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের কাজ হলো দল-মত ও সংগঠনের ঊর্ধ্বে উঠে সব শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনের প্রতি সমান ও নিরপেক্ষ আচরণ নিশ্চিত করা।

আরও জানায়, বৈষম্যহীন ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত না করা হলে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে কঠোর প্রতিবাদ অব্যাহত রাখা হবে।

​একই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলন জানায়, একটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ছাত্রসংগঠনকে সুবিধা দেওয়া এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে এড়িয়ে চলা নজিরবিহীন ও দুঃখজনক। একটি সর্বজনীন ও পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে এ ধরনের নীতি প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কবি নজরুল সরকারি কলেজ কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি মুক্ত জ্ঞানচর্চা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চার কেন্দ্র।

​উভয় সংগঠনই অবিলম্বে কলেজ প্রশাসনকে বৈষম্যমূলক নীতি পরিহার করে ক্যাম্পাসে সুস্থ, স্বাভাবিক, নিরপেক্ষ ও সহাবস্থানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন কলেজ শাখার সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ তাজিম বলেন, আজ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সঃ) অনুষ্ঠানে কলেজ প্রশাসন ক্যাম্পাসের কয়েকটি ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনকে মাইনাস করেছে।৫ আগষ্ট পরবর্তী সময় থেকে কবি নজরুল কলেজে যে সৌহার্দপূর্ণ ছাত্র রাজনীতি চর্চা হয়ে আসছে, কলেজ প্রশাসনের এহেন কর্মকান্ড তার অন্তরায়।কলেজ প্রশাসন শুভ বুদ্ধি ফিরে পাক সেই কামনা করছি।

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ কলেজ শাখার সভাপতি নাহিদ হাসান বলেন, কলেজ প্রশাসন দিন দিন ছাত্রদলের ওপর ঝুঁকে পড়ছে এবং বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও কার্যক্রমে তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

​প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নোটিশ না থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদলের নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেটের বাজেট কিংবা বাথরুম নির্মাণের মতো বিষয়গুলোর ঘোষণা দিচ্ছেন। কোনো নির্দিষ্ট দলের ওপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠান চালাতে চাইলে কলেজ প্রশাসনকেও শেষ পর্যন্ত আমেনার মতোই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে এক ফেসবুক পোস্টে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইরফান আহমদ ফাহিম বলেন, আজ কলেজে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর প্রোগ্রামে দাওয়াত না পাওয়ার অভিযোগ তুলে দুটি বিবৃতি চোখে পড়লো। প্রশাসন নোটিশ ও ফোনে সক্রিয় সব সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানালেও তারা অভিযোগ করছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু দাওয়াত নেওয়াই কি তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম? সাধারণ শিক্ষার্থী বা কলেজের জন্য তাদের ভূমিকা কোথায়? আমরা ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন হয়েও যা করি নাই, আপনারা বাসায় বসে পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা করছেন। হীনমন্যতা ছেড়ে সঠিকভাবে রাজনৈতিক চর্চা করুন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, এটা ধর্মীয়ভাবগম্ভীর্য পূর্ণ একটি অনুষ্ঠান ছিল, এটি রাজনৈতিক কোনো অনুষ্ঠান ছিল না। আমরা চেষ্টা করেছি সব সংগঠনকে দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার। ছাত্রদল এবং ছাত্র শিবিরের প্রতিনিধি এসেছিলো। তাদেরকে ডেকে আমরা মঞ্চে বসিয়েছি।

দুটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনকে দাওয়াত না দেয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাহিদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তাকে দাওয়াতও পৌঁছে দিয়েছি। তারা কেন আসেনি সে বিষয়ে আমি বলতে পারবো না। আর কলেজে যে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি আছে সে বিষয়ে আমি জানি না।

জনপ্রিয়

মিলাদুন্নবীতে দুই সংগঠনকে আমন্ত্রণ না দেয়ার অভিযোগ কবি নজরুল কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে

মিলাদুন্নবীতে দুই সংগঠনকে আমন্ত্রণ না দেয়ার অভিযোগ কবি নজরুল কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে

প্রকাশিত ০৯:১৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল সরকারি কলেজে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাতমূলক ও বৈষম্যমূলক’ আচরণের অভিযোগ তুলেছে কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন দুটি কলেজ প্রশাসনের এমন পক্ষপাতমূলক ও বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

কবি নজরুল কলেজ শাখা ​ছাত্র অধিকার পরিষদ এক বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ তুলে জানান, পবিত্র মিলাদুন্নবী (সা.)-এর অনুষ্ঠানে কোনো নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে বিশেষ সুবিধা প্রদান, দাওয়াত দেওয়া কিংবা অন্য সংগঠনকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের কাজ হলো দল-মত ও সংগঠনের ঊর্ধ্বে উঠে সব শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনের প্রতি সমান ও নিরপেক্ষ আচরণ নিশ্চিত করা।

আরও জানায়, বৈষম্যহীন ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত না করা হলে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে কঠোর প্রতিবাদ অব্যাহত রাখা হবে।

​একই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলন জানায়, একটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ছাত্রসংগঠনকে সুবিধা দেওয়া এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে এড়িয়ে চলা নজিরবিহীন ও দুঃখজনক। একটি সর্বজনীন ও পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে এ ধরনের নীতি প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কবি নজরুল সরকারি কলেজ কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি মুক্ত জ্ঞানচর্চা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চার কেন্দ্র।

​উভয় সংগঠনই অবিলম্বে কলেজ প্রশাসনকে বৈষম্যমূলক নীতি পরিহার করে ক্যাম্পাসে সুস্থ, স্বাভাবিক, নিরপেক্ষ ও সহাবস্থানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন কলেজ শাখার সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ তাজিম বলেন, আজ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সঃ) অনুষ্ঠানে কলেজ প্রশাসন ক্যাম্পাসের কয়েকটি ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনকে মাইনাস করেছে।৫ আগষ্ট পরবর্তী সময় থেকে কবি নজরুল কলেজে যে সৌহার্দপূর্ণ ছাত্র রাজনীতি চর্চা হয়ে আসছে, কলেজ প্রশাসনের এহেন কর্মকান্ড তার অন্তরায়।কলেজ প্রশাসন শুভ বুদ্ধি ফিরে পাক সেই কামনা করছি।

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ কলেজ শাখার সভাপতি নাহিদ হাসান বলেন, কলেজ প্রশাসন দিন দিন ছাত্রদলের ওপর ঝুঁকে পড়ছে এবং বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও কার্যক্রমে তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

​প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নোটিশ না থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদলের নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেটের বাজেট কিংবা বাথরুম নির্মাণের মতো বিষয়গুলোর ঘোষণা দিচ্ছেন। কোনো নির্দিষ্ট দলের ওপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠান চালাতে চাইলে কলেজ প্রশাসনকেও শেষ পর্যন্ত আমেনার মতোই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে এক ফেসবুক পোস্টে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইরফান আহমদ ফাহিম বলেন, আজ কলেজে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর প্রোগ্রামে দাওয়াত না পাওয়ার অভিযোগ তুলে দুটি বিবৃতি চোখে পড়লো। প্রশাসন নোটিশ ও ফোনে সক্রিয় সব সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানালেও তারা অভিযোগ করছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু দাওয়াত নেওয়াই কি তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম? সাধারণ শিক্ষার্থী বা কলেজের জন্য তাদের ভূমিকা কোথায়? আমরা ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন হয়েও যা করি নাই, আপনারা বাসায় বসে পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা করছেন। হীনমন্যতা ছেড়ে সঠিকভাবে রাজনৈতিক চর্চা করুন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, এটা ধর্মীয়ভাবগম্ভীর্য পূর্ণ একটি অনুষ্ঠান ছিল, এটি রাজনৈতিক কোনো অনুষ্ঠান ছিল না। আমরা চেষ্টা করেছি সব সংগঠনকে দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার। ছাত্রদল এবং ছাত্র শিবিরের প্রতিনিধি এসেছিলো। তাদেরকে ডেকে আমরা মঞ্চে বসিয়েছি।

দুটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনকে দাওয়াত না দেয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাহিদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তাকে দাওয়াতও পৌঁছে দিয়েছি। তারা কেন আসেনি সে বিষয়ে আমি বলতে পারবো না। আর কলেজে যে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি আছে সে বিষয়ে আমি জানি না।