আইন-আদালত ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে বর্তমানে প্রায় তিনশ শিশু অবস্থান করছে। এসব শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে কারাগারের বাইরে তাদের পুনর্বাসনের সুপারিশ করা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সম্প্রতি হাই কোর্টে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। নির্দিষ্ট বয়সসীমা পার হওয়ার পর শিশুদের নিকটাত্মীয়ের কাছে বিকল্প পারিবারিক যত্ন অথবা সরকারি শিশু পরিবারে রাখার কথা বলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনার আলোக்கில் তৈরি করা এই প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে প্রায় ২৯৯টি শিশু রয়েছে, যার মধ্যে ১৫৩টি মেয়ে এবং ১৪৬টি ছেলে শিশু রয়েছে। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে শিশুদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে একাকী গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারেই সবচেয়ে বেশি ৫১টি শিশু অবস্থান করছে। এসব বন্দি মায়েদের অনেকেই মাদক মামলার আসামি হিসেবে সাজা খাটছেন অথবা বিচারাধীন রয়েছেন। জেল কোডের বিধান অনুযায়ী শিশুরা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত মায়ের সঙ্গে থাকতে পারলেও কারাগারের পরিবেশ তাদের দীর্ঘমেয়াদী বিকাশের জন্য উপযোগী নয়।
কারাগারে অবস্থানরত শিশুদের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য সরাসরি কোনো শিশু সুরক্ষা ইউনিট না থাকলেও প্রবেশন শাখার মাধ্যমে সীমিত পরিসরে চেষ্টা চলছে। বর্তমানে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে এবং বিভিন্ন অনুদান ও দাতার সহায়তায় শিশুদের খেলনা, পোশাক ও পুষ্টিকর খাদ্য দেওয়া হচ্ছে। তবে শিশুদের জন্য সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতিমালা ও তহবিল না থাকায় বিকল্প পারিবারিক ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সরকারি অর্থায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে গত মে মাসে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী জনস্বার্থে রিট আবেদন করলে আদালত এই প্রতিবেদন তলব করেছিলেন।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হাই কোর্ট এই বিষয়ে রুল জারি করে দুই মাসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই আদেশের ধারাবাহিকতায় সমাজসেবা অধিদপ্তর তাদের মতামত ও সুপারিশমালা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে পাঠিয়েছে। এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, মায়ের অপরাধের পাশাপাশি শিশুর মাতৃস্নেহ ও স্বাভাবিক বিকাশ পাওয়ার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। লঘু অপরাধে জড়িত মায়েদের শিশুদের জন্য বিকল্প অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার কথা ভাবা যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি সংশ্লিষ্ট মহল প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।





































