আইন-আদালত ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ ছুটির কারণে দেশের বিচারব্যবস্থার গতি কমে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার মতে, এই অতিরিক্ত অবকাশ সাধারণ মানুষের দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। সম্প্রতি নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিচারালয়ের এই দীর্ঘ ছুটি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রের অন্য সব প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ছুটির বাইরে আদালতের এই নিজস্ব অতিরিক্ত ছুটি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, বর্ষপঞ্জি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বছরের ৩৬৫ দিনের একটি বড় অংশজুড়ে সুপ্রিম কোর্টে ছুটি থাকে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক থাকাকালীন তিনি এই ছুটি কমানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে সাংবাদিকদের জানান। ছুটির এই দীর্ঘ সময়ে বিচারপতিরা তাদের অসমাপ্ত রায় বা আদেশের কাজ শেষ করবেন এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তা সবসময় অর্জিত হয় না। অনেক বিচারক এই দীর্ঘ সময়ে একটি রায়ও লেখেননি এমন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে তাহলে এই ছুটির যৌক্তিকতা কোথায়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে রায় লেখার পুরো বিষয়টি বিচারকদের নিজস্ব সদিচ্ছার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে থাকে। ছুটি কমিয়ে বিচারকদের নিয়মিত বিচারকাজে আরও বেশি সময় যুক্ত করা গেলে আটকে থাকা মামলার পাহাড় কমানো সম্ভব হতো। এতে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হতো এবং মানুষের আইনি সহায়তার চাহিদা পূরণ করা সহজ হতো। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনি প্রধান বিচারপতির প্রতি বর্তমান ছুটির নিয়মগুলো পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ জানান।
নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অবকাশকালীন সময়ে বিচারপ্রার্থীদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে নির্দিষ্ট সংখ্যক বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নির্দেশে হাই কোর্ট বিভাগে বিচারকাজ পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে তেরোটি বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছরই বিভিন্ন মেয়াদে অবকাশ থাকে এবং প্রকাশিত বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী এসব দিন নির্ধারিত হয়। চলমান দীর্ঘ অবকাশ শেষে আগামী পঁচিশে অক্টোবর থেকে আপিল ও হাই কোর্ট বিভাগের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম পুনরায় সচল হবে।





































