ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

সিঙ্গাপুরে কাজ হারিয়ে অনিশ্চয়তায় দুই প্রতিষ্ঠানের শতাধিক বাংলাদেশি

প্রবাস ডেস্ক: সিঙ্গাপুরের দুটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ২৪০ জন অভিবাসী শ্রমিক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশের নাগরিক। ‘প্রসেস মেইনটেন্যান্স সলিউশনস’ এবং ‘জুরং টেকনিক্যাল অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা গত কয়েক মাস ধরে কোনো বেতন পাচ্ছেন না। এর ফলে অভিবাসী এসব শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং অনেকের কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিটও বাতিল করা হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরে আসার জন্য তারা দালালদের মাধ্যমে বড় অংকের অর্থ ঋণ নিয়েছিলেন। পাবনার ২৪ বছর বয়সি বাংলাদেশি শ্রমিক হোসেন মৃদুল ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দেশটিতে গেলেও এখন তার কাজ ও বেতন দুটোই বন্ধ রয়েছে। একই দশা হয়েছে আরেক বাংলাদেশি শ্রমিক সায়মন ইসলামের, যার প্রায় ১ হাজার ৮০০ সিঙ্গাপুরি ডলার বেতন বকেয়া পড়েছে। অতিরিক্ত ঋণ এবং পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে এসব শ্রমিক চরম মানসিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয় বা এমওএম। বকেয়া বেতন আদায় ও শ্রমিকদের সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু শ্রমিক তাদের বকেয়া বেতন ফিরে পেতে শুরু করেছেন এবং তাদের নতুন নিয়োগকর্তার সন্ধান করার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভিবাসী শ্রমিক কেন্দ্র ও অংশীদার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীদের খাবার এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

সিঙ্গাপুরের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে বিদেশি কর্মীদের বেতন পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে নিয়োগকর্তার সিকিউরিটি বন্ড বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে। তদন্তে শ্রম আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির মন্ত্রণালয়। তবে বিশাল অংকের ঋণগ্রস্ত এই শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ এবং তাদের পাওনা পুরোপুরি আদায় হওয়া নিয়ে এখনো গভীর শঙ্কা রয়ে গেছে।

জনপ্রিয়

‘১৫০’ ছুঁয়ে ভারতের প্রথম আর্শদিপ

সিঙ্গাপুরে কাজ হারিয়ে অনিশ্চয়তায় দুই প্রতিষ্ঠানের শতাধিক বাংলাদেশি

প্রকাশিত ০২:৫২:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাস ডেস্ক: সিঙ্গাপুরের দুটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ২৪০ জন অভিবাসী শ্রমিক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশের নাগরিক। ‘প্রসেস মেইনটেন্যান্স সলিউশনস’ এবং ‘জুরং টেকনিক্যাল অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা গত কয়েক মাস ধরে কোনো বেতন পাচ্ছেন না। এর ফলে অভিবাসী এসব শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং অনেকের কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিটও বাতিল করা হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরে আসার জন্য তারা দালালদের মাধ্যমে বড় অংকের অর্থ ঋণ নিয়েছিলেন। পাবনার ২৪ বছর বয়সি বাংলাদেশি শ্রমিক হোসেন মৃদুল ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দেশটিতে গেলেও এখন তার কাজ ও বেতন দুটোই বন্ধ রয়েছে। একই দশা হয়েছে আরেক বাংলাদেশি শ্রমিক সায়মন ইসলামের, যার প্রায় ১ হাজার ৮০০ সিঙ্গাপুরি ডলার বেতন বকেয়া পড়েছে। অতিরিক্ত ঋণ এবং পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে এসব শ্রমিক চরম মানসিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয় বা এমওএম। বকেয়া বেতন আদায় ও শ্রমিকদের সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু শ্রমিক তাদের বকেয়া বেতন ফিরে পেতে শুরু করেছেন এবং তাদের নতুন নিয়োগকর্তার সন্ধান করার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভিবাসী শ্রমিক কেন্দ্র ও অংশীদার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীদের খাবার এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

সিঙ্গাপুরের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে বিদেশি কর্মীদের বেতন পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে নিয়োগকর্তার সিকিউরিটি বন্ড বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে। তদন্তে শ্রম আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির মন্ত্রণালয়। তবে বিশাল অংকের ঋণগ্রস্ত এই শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ এবং তাদের পাওনা পুরোপুরি আদায় হওয়া নিয়ে এখনো গভীর শঙ্কা রয়ে গেছে।