ঢাকা ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

জিপিএ-৫ পেয়েছে রাকিব, কাঁদছে পরিবার

অপরাধ ডেস্ক: বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে পড়ার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল মেধাবী শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিবের। সম্প্রতি প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় তিনি জিপিএ-৫ পেয়েছেন, যা আনন্দ নিয়ে আসার কথা থাকলেও পরিবারে ডেকে এনেছে গভীর শোক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার কোচিং করার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসার পর নির্মম হত্যাকাргаের শিকার হন এই শিক্ষার্থী। তার এমন দুর্দান্ত ফলাফলের পরও শোকের সাগরে ভাসছে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীরা।

নিহত রাকিবের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় এবং তার বাবা একজন কৃষক। এর আগে মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ অর্জনকারী রাকিব উচ্চ মাধ্যমিকে ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে অংশ নিয়েছিলেন। এইচএসসি পরীক্ষা শেষে তিনি ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর পরিচয় দেওয়া আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকারের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল। পড়াশোনায় সহযোগিতার কথা বলে সেই ব্যক্তি গত সেপ্টেম্বরে তাকে ধানমন্ডির একটি বাসায় ডেকে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে হত্যা করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রাকিবকে হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তাকে জীবিত দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে চার লাখ টাকাও হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত ব্যক্তি। নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বড় ভাই থানায় মামলা করার পর পুলিশ অভিযুক্ত মামুনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীতে একটি সুপারিবাগান থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই রাকিবের বাবা-মা চরম মানসিক আঘাতের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

রাকিবের সহপাঠী ও বন্ধুরা জানান, তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং সব সময় পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়াশোনা শেষে ব্যারিস্টার হওয়ার সুপ্ত বাসনা ছিল তার। বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যে পরিকল্পনা ছিল, রাকিবের মৃত্যুর কারণে তা চিরতরে শেষ হয়ে গেছে। বন্ধুরা এখন এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

পরিবারের একমাত্র ছোট ছেলেকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জীবন ও স্থানীয় এলাকাবাসী রাকিবের স্বপ্নভঙ্গের জন্য দায়ীদের কঠোর বিচার দাবি করেছেন। পুলিশি তদন্তে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে এবং একমাত্র মেধাবী সন্তানকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন তার মা-বাবা।

জনপ্রিয়

নিউ জিল্যান্ডে রোহিতের চেয়ে কোহলির সেঞ্চুরির ‘সম্ভাবনা বেশি’

জিপিএ-৫ পেয়েছে রাকিব, কাঁদছে পরিবার

প্রকাশিত ০৮:৫২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে পড়ার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল মেধাবী শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিবের। সম্প্রতি প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় তিনি জিপিএ-৫ পেয়েছেন, যা আনন্দ নিয়ে আসার কথা থাকলেও পরিবারে ডেকে এনেছে গভীর শোক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার কোচিং করার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসার পর নির্মম হত্যাকাргаের শিকার হন এই শিক্ষার্থী। তার এমন দুর্দান্ত ফলাফলের পরও শোকের সাগরে ভাসছে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীরা।

নিহত রাকিবের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় এবং তার বাবা একজন কৃষক। এর আগে মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ অর্জনকারী রাকিব উচ্চ মাধ্যমিকে ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে অংশ নিয়েছিলেন। এইচএসসি পরীক্ষা শেষে তিনি ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর পরিচয় দেওয়া আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকারের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল। পড়াশোনায় সহযোগিতার কথা বলে সেই ব্যক্তি গত সেপ্টেম্বরে তাকে ধানমন্ডির একটি বাসায় ডেকে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে হত্যা করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রাকিবকে হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তাকে জীবিত দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে চার লাখ টাকাও হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত ব্যক্তি। নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বড় ভাই থানায় মামলা করার পর পুলিশ অভিযুক্ত মামুনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীতে একটি সুপারিবাগান থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই রাকিবের বাবা-মা চরম মানসিক আঘাতের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

রাকিবের সহপাঠী ও বন্ধুরা জানান, তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং সব সময় পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়াশোনা শেষে ব্যারিস্টার হওয়ার সুপ্ত বাসনা ছিল তার। বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যে পরিকল্পনা ছিল, রাকিবের মৃত্যুর কারণে তা চিরতরে শেষ হয়ে গেছে। বন্ধুরা এখন এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

পরিবারের একমাত্র ছোট ছেলেকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জীবন ও স্থানীয় এলাকাবাসী রাকিবের স্বপ্নভঙ্গের জন্য দায়ীদের কঠোর বিচার দাবি করেছেন। পুলিশি তদন্তে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে এবং একমাত্র মেধাবী সন্তানকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন তার মা-বাবা।