সারাদেশ ডেস্ক: মোমবাতি ও প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী মহাশ্মশান। প্রয়াত স্বজনদের স্মরণ, আত্মার শান্তি কামনা এবং শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে শ্মশান দীপাবলি উৎসব। গত ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় নগরীর কাউনিয়া এলাকায় অবস্থিত এই মহাশ্মশানে দুইশ বছরের প্রাচীন এই আয়োজন শুরু হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, কালীপূজার আগের দিন ভূত চতুর্দশীর তিথিতে এই উৎসব উদযাপিত হয়।
প্রায় ছয় একর জমির ওপর বিস্তৃত পশ্চিম কাউনিয়া ও নতুন বাজার এলাকার এই মহাশ্মশানটি পৃথিবীর বৃহত্তম শ্মশান হিসেবে পরিচিত। এখানে ৭০ হাজারেরও বেশি মঠ রয়েছে এবং ১৯২৭ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই দীপাবলি উৎসব পালিত হয়ে আসছে। প্রিয়জনদের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো মানুষ এই স্থানে সমবেত হন। সমাধিতে ফুল দিয়ে সাজানোর পাশাপাশি প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনা করেন স্বজনরা।
এই ঐতিহাসিক মহাশ্মশানে সমাহিত রয়েছেন কবি জীবনানন্দ দাশের বাবা ও পিতামহসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি। এছাড়া ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী এবং সমাজসেবক অশ্বিনী কুমার দত্তের চিতাভস্মও এখানে সংরক্ষিত রয়েছে। উৎসবে আগত দর্শনার্থীরা প্রয়াত প্রিয়জনদের পছন্দের খাবার সমাধিতে নিবেদন করেন। অনেকে আবার আপনজনদের হারিয়ে স্মৃতির চারণায় কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মহাশ্মশান পরিচালনা কমিটি এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে উৎসবের জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দীপাবলি উপলক্ষে ভারত ও নেপালসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষের উপস্থিতিতে এটি এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মহাশ্মশান এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন।





































