অর্থনীতি ডেস্ক: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফ্ল্যাটের দাম বাড়ার পেছনে একক কোনো পক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেই বলে জানিয়েছেন আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা। এমএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে অ্যাপার্টমেন্টের দাম বাড়ছে না। তাঁর মতে, চাহিদার তুলনায় জমির চরম সংকট এবং জোগান ঘাটতিই ফ্ল্যাটের মূল্যবৃদ্ধির প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। কর্মসংস্থানের খোঁজে মানুষের ঢাকামুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকায় আবাসন বাজারে এই বহুমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।
বাস্তবতা তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানুষের মৌলিক চাহিদা হিসেবে আবাসন খাতের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও ঢাকাকেন্দ্রিক অতিরিক্ত চাপের কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। এই সমস্যার টেকসই সমাধানের জন্য শুধুমাত্র রাজধানী কেন্দ্রিক না থেকে আশপাশের এলাকায় পরিকল্পিত টাউনশিপ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ঢাকার বাইরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিত করা গেলে মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষেও সাশ্রয়ী মূল্যে ফ্ল্যাট কেনা সম্ভব হবে।
ব্যবসায়িক মুনাফা এবং নির্মাণ উপকরণের মান নিয়ে চলমান নানা আলোচনা প্রসঙ্গে মোবারক হোসেন জানান, জমির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ডেভেলপারদের মুনাফার সুযোগ বর্তমানে অনেক সীমিত হয়ে এসেছে। নির্মাণসামগ্রী নিয়ে অনেক সময় নানা অভিযোগ উঠলেও সঠিক অনুপাত ও মান বজায় রাখাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। বর্তমান যুগের ক্রেতারা অনেক বেশি সচেতন হওয়ায় যেকোনো সম্পত্তি কেনার আগেই কাগজপত্র নিখুঁতভাবে যাচাই করার সুযোগ পান।
অস্বাভাবিক কম মূল্যের প্রলোভনে না পড়ে সুনির্দিষ্ট যাচাই-বাছাই করে বিনিয়োগ করার জন্য ক্রেতাদের প্রতি বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাভারের বিরুলিয়ায় এমএইচ গ্রুপের নতুন আবাসিক প্রকল্পের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলা হয়, ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা মাথায় রেখে এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা সম্ভব। আবাসন ব্যবসার মতো সংবেদনশীল খাতে সফল হতে হলে ব্যবসায়ী মহলে পেশাগত নৈতিকতা এবং আস্থার পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।




































