ঢাকা ১১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo নতুন কৌশলে দুর্বৃত্তরা Logo ফ্ল্যাটের দাম বাড়ছে কেন? এমএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান বলছেন জমি সংকটের কথা Logo চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্যামা পূজা ও দীপাবলি উৎসব Logo সরকারের সাফল্যে দক্ষ, সৎ ও মানবিক প্রশাসন জরুরি: প্রধানমন্ত্রী Logo নতুন বছরে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবে বই-ড্রেস-জুতা ও ব্যাগ Logo এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে জালিয়াতি প্রতিরোধে ইসলামী ব্যাংকে কর্মশালা Logo থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সহায়তায় রবি’র স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি Logo জেকে লাইফস্টাইলে নতুন তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিয়োগ Logo নেতানিয়াহুকে হঠাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের দাবিতে ইসরায়েলিদের বিক্ষোভ Logo বাইনোকুলারে দেখলাম ওঁৎ পেতে আছে বাংলাদেশিরা, ফাঁক পেলে ঢুকে পড়বে: শুভেন্দু অধিকারী

নতুন কৌশলে দুর্বৃত্তরা

অপরাধ ডেস্ক: সন্ধ্যা নামলেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে, বিপণিবিতান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। মোটরসাইকেলে বা ফ্লাইওভার থেকে হঠাৎ বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার নতুন কৌশল অবলম্বন করছে দুর্বৃত্তরা। চলমান এসব নাশকতার ঘটনায় বড় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম আট দিনেই ঢাকায় অন্তত ২৪টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং চারটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। গত আট নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, পল্লবী থানা প্রাঙ্গণ এবং মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ের সামনেও একই কায়দায় বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এর আগে খিলগাঁও, আদাবর, শাহবাগ, মিরপুর ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি বাস পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সুনির্দিষ্ট এই ধারাবাহিক নাশকতার পেছনে পরিকল্পিতভাবে কোনো আতঙ্কজনক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এসব অপতৎপরতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে সামনে রেখে একটি মহল দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং জনসাধারণের মনে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এই নাশকতা চালাচ্ছ। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অন্তত ২৩ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের কাজ চলছে। অনেক হামলাকারীকে হেলমেট পরিহিত অবস্থায় মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে দেখা গেছে, যা তাদের গ্রেপ্তারে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার এসব হামলা ঠেকানো যাচ্ছে না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ বাহিনীতে সৃষ্টি হওয়া নানা অনিশ্চয়তা, ঘন ঘন বদলি এবং মাঠপর্যায়ের সমন্বয়হীনতা তাদের কার্যকারিতাকে কিছুটা প্রভাবিত করছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সিসিটিভি ফুটেজের ওপর নির্ভর করে অপরাধ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কার্যকর নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, স্থানীয় পর্যায়ে কড়া নজরদারি এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মহানগর পুলিশ ইতিমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মোবাইল টিম ও পিকেট ডিউটি বাড়িয়ে সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিটি নাশকতার ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাফেরা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয়

নতুন কৌশলে দুর্বৃত্তরা

নতুন কৌশলে দুর্বৃত্তরা

প্রকাশিত ১১:০৭:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: সন্ধ্যা নামলেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে, বিপণিবিতান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। মোটরসাইকেলে বা ফ্লাইওভার থেকে হঠাৎ বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার নতুন কৌশল অবলম্বন করছে দুর্বৃত্তরা। চলমান এসব নাশকতার ঘটনায় বড় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম আট দিনেই ঢাকায় অন্তত ২৪টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং চারটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। গত আট নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, পল্লবী থানা প্রাঙ্গণ এবং মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ের সামনেও একই কায়দায় বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এর আগে খিলগাঁও, আদাবর, শাহবাগ, মিরপুর ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি বাস পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সুনির্দিষ্ট এই ধারাবাহিক নাশকতার পেছনে পরিকল্পিতভাবে কোনো আতঙ্কজনক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এসব অপতৎপরতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে সামনে রেখে একটি মহল দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং জনসাধারণের মনে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এই নাশকতা চালাচ্ছ। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অন্তত ২৩ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের কাজ চলছে। অনেক হামলাকারীকে হেলমেট পরিহিত অবস্থায় মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে দেখা গেছে, যা তাদের গ্রেপ্তারে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার এসব হামলা ঠেকানো যাচ্ছে না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ বাহিনীতে সৃষ্টি হওয়া নানা অনিশ্চয়তা, ঘন ঘন বদলি এবং মাঠপর্যায়ের সমন্বয়হীনতা তাদের কার্যকারিতাকে কিছুটা প্রভাবিত করছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সিসিটিভি ফুটেজের ওপর নির্ভর করে অপরাধ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কার্যকর নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, স্থানীয় পর্যায়ে কড়া নজরদারি এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মহানগর পুলিশ ইতিমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মোবাইল টিম ও পিকেট ডিউটি বাড়িয়ে সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিটি নাশকতার ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাফেরা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।