ঢাকা ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে  Logo ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে মিললো সমাধান, ববি শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার Logo জাবিতে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রকল্যাণ সংঘের সভাপতি হাসান, সম্পাদক কাফী Logo কুবির বিজয়-২৪ হলকে মাদকমুক্ত করতে উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি Logo রাবিতে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার Logo বাঁধন, জবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo দপদপিয়া সেতুতে আবারও দুর্ঘটনা: একদিনে দুই ঘটনায় আহত ৩ ববি শিক্ষার্থী Logo যাত্রাবাড়ীতে বিপুল গাঁজাসহ তিন মাদককারবারী গ্রেপ্তার Logo জাবির ছাত্রী হলে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন Logo সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞান চর্চায় বাকৃবির মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ে ‘ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মেলা’

রাবি শিক্ষার্থীদের ভাবনায় একুশের চেতনা

“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি”— এই অমর পঙ্‌ক্তি আজও বাঙালির হৃদয়ে গভীরভাবে অনুরণিত হয়। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল ও বেদনাময় দিন। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলার রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে তরুণদের আত্মত্যাগ ভাষা আন্দোলনকে অমর করে রেখেছে।

ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়—এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারি আজ বিশ্বজুড়ে ভাষাগত বৈচিত্র্য ও বহুভাষিকতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন। একুশের চেতনা আমাদের শেখায় মাতৃভাষাকে ভালোবাসতে, শুদ্ধভাবে চর্চা করতে এবং সব ভাষার প্রতি সমান সম্মান প্রদর্শন করতে।একুশ কেবল অতীতের স্মৃতি নয়—এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রেরণা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের ভাবনার কথা জানিয়েছেন অভিযাত্রার রাবি প্রতিনিধি সাইমুন ইসলাম সজিব।

“ভাষার প্রশ্নে আপস নয় “

ভাষা কেবল ভাব প্রকাশ করার মাধ্যমই নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি আর ইতিহাসের প্রতীক। যে ভাষায় আমরা স্বপ্ন দেখি, ভালোবাসি, প্রতিবাদ করি—সেই ভাষার মর্যাদা রক্ষা করার জন্য আমাদের পূর্বসূরিরা জীবন উৎসর্গ করেছেন। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে, ভাষার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না। শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পেয়েছে। এ ছাড়া ভাষাসংগ্রাম শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি চলমান দায়িত্ব। প্রতিনিয়ত আমাদের বাংলা ভাষার পরিবর্তন হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে ভাষা বদলে যাবে, এটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু পরিবর্তন করার নামে বিকৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মো:রাকিবুল ইসলাম ,হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যব্যবস্থা বিভাগ

 

“একুশ বাঙালির জাতির নিরব মহাকাব্য “

একুশের ভালোবাসা ছিল নিঃশব্দ অথচ অনমনীয়। মায়ের মুখের ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যে হৃদয় নিজের স্পন্দন থামিয়ে দেয়, তার চেয়ে গভীর প্রেম আর হতে পারে না। সেই প্রেমে ছিল না কোনো ধরনের ব্যক্তিগত দাবি। শুধু ছিল সম্মিলিত অস্তিত্বের স্বপ্ন। আজ যখন আমরা স্বচ্ছন্দে বাংলায় কথা বলি, কবিতা লিখি, গান গাই—তখন প্রতিটি শব্দের আড়ালে লুকিয়ে থাকে সেই অমর আত্মত্যাগের প্রতিধ্বনি। শহীদ মিনারের পাদদেশে নত হয়ে দাঁড়ালে মনে হয়, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; ভাষা আমাদের আত্মার আলো। একুশ শেখায়, ভালোবাসা যখন ভাষার জন্য জাগে, তখন তা ইতিহাস বদলে দেয়। একুশে ফেব্রুয়ারি তাই বিশেষ কোনো তারিখ নয়, একুশ হলো ভাষার জন্য বাঙালি জাতির নীরব মহাকাব্য।

মো: ফয়সাল আহমেদ, ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগ

 

“একুশ মানে মাথা নত না করার অঙ্গিকার “

বাংলাদেশের ইতিহাসে তরুণদের ভূমিকা বারবার দেশের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। সেই সাহসের সবচেয়ে বড় উৎস ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। ভাষাশহীদদের প্রায় সবাই ছিলেন ৩০ বছর বয়সের নিচে। তাঁরা বয়সে তরুণ হলেও তাঁদের আত্মত্যাগ ছিল জাতির আত্মপরিচয় রক্ষা করার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। একুশ কেবল একটি দিনের স্মৃতি নয়, এটি তরুণদের জন্য একধরনের মানসিক প্রস্তুতি। মহান একুশ আমাদের শিখিয়েছে সাংস্কৃতিক সচেতনতা ও ঐক্যের পাঠও। নিজের ভাষা ও ঐতিহ্যকে ভালোবেসে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা এই আন্দোলনের ভেতরেই নিহিত।

মো: ইউসুফ, আইন বিভাগ,

 

“একুশ বাঙালি জাতির জীবনীশক্তির মূলমন্ত্র।”

একুশে ফেব্রুয়ারি জাতির জীবনে শোকাবহ, গৌরবোজ্জ্বল আর অহংকারে মহিমান্বিত চিরভাস্বর একটি দিন। পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক জাঁতাকলের শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির প্রথম প্রতিবাদের ঘটনা ঘটে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। দিনটি একাধারে শহীদ দিবস হিসেবেও পরিচিত। মাতৃভাষা একটি জাতির আত্মপ্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। জাতিসত্তার প্রতীক। আত্মপরিচয় বিকাশের বাহক মাতৃভাষা। প্রতিটি দেশের মানুষই তাঁর মাতৃভাষার প্রতি স্নেহশীল। আর বাঙালি জাতির মাতৃভাষার ইতিহাস বাংলার সূর্যসন্তানদের বুকের তাজা রক্তে লেখা এক চিরগৌরবের ইতিহাস। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের শোকস্তব্ধ অহংকারের প্রতীক। বাঙালি জাতির জীবনীশক্তির মূলমন্ত্র।

আরিফা আক্তার আঁখি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ

 

সায়েম/রাবি

জনপ্রিয়

ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে 

রাবি শিক্ষার্থীদের ভাবনায় একুশের চেতনা

প্রকাশিত ০৪:০২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি”— এই অমর পঙ্‌ক্তি আজও বাঙালির হৃদয়ে গভীরভাবে অনুরণিত হয়। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল ও বেদনাময় দিন। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলার রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে তরুণদের আত্মত্যাগ ভাষা আন্দোলনকে অমর করে রেখেছে।

ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়—এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারি আজ বিশ্বজুড়ে ভাষাগত বৈচিত্র্য ও বহুভাষিকতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন। একুশের চেতনা আমাদের শেখায় মাতৃভাষাকে ভালোবাসতে, শুদ্ধভাবে চর্চা করতে এবং সব ভাষার প্রতি সমান সম্মান প্রদর্শন করতে।একুশ কেবল অতীতের স্মৃতি নয়—এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রেরণা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের ভাবনার কথা জানিয়েছেন অভিযাত্রার রাবি প্রতিনিধি সাইমুন ইসলাম সজিব।

“ভাষার প্রশ্নে আপস নয় “

ভাষা কেবল ভাব প্রকাশ করার মাধ্যমই নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি আর ইতিহাসের প্রতীক। যে ভাষায় আমরা স্বপ্ন দেখি, ভালোবাসি, প্রতিবাদ করি—সেই ভাষার মর্যাদা রক্ষা করার জন্য আমাদের পূর্বসূরিরা জীবন উৎসর্গ করেছেন। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে, ভাষার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না। শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পেয়েছে। এ ছাড়া ভাষাসংগ্রাম শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি চলমান দায়িত্ব। প্রতিনিয়ত আমাদের বাংলা ভাষার পরিবর্তন হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে ভাষা বদলে যাবে, এটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু পরিবর্তন করার নামে বিকৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মো:রাকিবুল ইসলাম ,হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যব্যবস্থা বিভাগ

 

“একুশ বাঙালির জাতির নিরব মহাকাব্য “

একুশের ভালোবাসা ছিল নিঃশব্দ অথচ অনমনীয়। মায়ের মুখের ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যে হৃদয় নিজের স্পন্দন থামিয়ে দেয়, তার চেয়ে গভীর প্রেম আর হতে পারে না। সেই প্রেমে ছিল না কোনো ধরনের ব্যক্তিগত দাবি। শুধু ছিল সম্মিলিত অস্তিত্বের স্বপ্ন। আজ যখন আমরা স্বচ্ছন্দে বাংলায় কথা বলি, কবিতা লিখি, গান গাই—তখন প্রতিটি শব্দের আড়ালে লুকিয়ে থাকে সেই অমর আত্মত্যাগের প্রতিধ্বনি। শহীদ মিনারের পাদদেশে নত হয়ে দাঁড়ালে মনে হয়, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; ভাষা আমাদের আত্মার আলো। একুশ শেখায়, ভালোবাসা যখন ভাষার জন্য জাগে, তখন তা ইতিহাস বদলে দেয়। একুশে ফেব্রুয়ারি তাই বিশেষ কোনো তারিখ নয়, একুশ হলো ভাষার জন্য বাঙালি জাতির নীরব মহাকাব্য।

মো: ফয়সাল আহমেদ, ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগ

 

“একুশ মানে মাথা নত না করার অঙ্গিকার “

বাংলাদেশের ইতিহাসে তরুণদের ভূমিকা বারবার দেশের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। সেই সাহসের সবচেয়ে বড় উৎস ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। ভাষাশহীদদের প্রায় সবাই ছিলেন ৩০ বছর বয়সের নিচে। তাঁরা বয়সে তরুণ হলেও তাঁদের আত্মত্যাগ ছিল জাতির আত্মপরিচয় রক্ষা করার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। একুশ কেবল একটি দিনের স্মৃতি নয়, এটি তরুণদের জন্য একধরনের মানসিক প্রস্তুতি। মহান একুশ আমাদের শিখিয়েছে সাংস্কৃতিক সচেতনতা ও ঐক্যের পাঠও। নিজের ভাষা ও ঐতিহ্যকে ভালোবেসে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা এই আন্দোলনের ভেতরেই নিহিত।

মো: ইউসুফ, আইন বিভাগ,

 

“একুশ বাঙালি জাতির জীবনীশক্তির মূলমন্ত্র।”

একুশে ফেব্রুয়ারি জাতির জীবনে শোকাবহ, গৌরবোজ্জ্বল আর অহংকারে মহিমান্বিত চিরভাস্বর একটি দিন। পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক জাঁতাকলের শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির প্রথম প্রতিবাদের ঘটনা ঘটে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। দিনটি একাধারে শহীদ দিবস হিসেবেও পরিচিত। মাতৃভাষা একটি জাতির আত্মপ্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। জাতিসত্তার প্রতীক। আত্মপরিচয় বিকাশের বাহক মাতৃভাষা। প্রতিটি দেশের মানুষই তাঁর মাতৃভাষার প্রতি স্নেহশীল। আর বাঙালি জাতির মাতৃভাষার ইতিহাস বাংলার সূর্যসন্তানদের বুকের তাজা রক্তে লেখা এক চিরগৌরবের ইতিহাস। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের শোকস্তব্ধ অহংকারের প্রতীক। বাঙালি জাতির জীবনীশক্তির মূলমন্ত্র।

আরিফা আক্তার আঁখি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ

 

সায়েম/রাবি