ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী ছাড়াও ব্যক্তিত্বের রয়েছে আরও দুটি ধরন Logo চুক্তি আছে, কর্মী নেই: গ্রিসের শ্রমবাজারে পিছিয়ে বাংলাদেশ Logo গোল করার পর ইয়ামালকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া ‘সহজ’ Logo যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী দিবসে বাংলাদেশিসহ ৭ জনকে সম্মাননা Logo শেরে বাংলা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পেল ববির শিক্ষার্থীদের সংগঠন ODM Logo জাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয় উচ্ছেদের চক্রান্তের তীব্র প্রতিবাদ ছাত্র ইউনিয়নের Logo পাবিপ্রবিতে ১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত Logo কাজের গঠনমূলক সমালোচনাতেই প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি সম্ভব- জাবি উপাচার্য Logo চিকিৎসক হতে চান আখাউড়ার মেয়ে লিজা Logo প্রথমবার মানবদেহে শামন্ডা ভাইরাস, বাংলাদেশে নজরদারি জোরদারের তাগিদ বাকৃবি বিশেষজ্ঞের

নামের মিল থাকায় ২০ দিন কারাভোগ, ওসিকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

পটুয়াখালীতে মামলার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও ভুল পরিচয়ের কারণে মো. জলিল হাওলাদার নামের এক সাধারণ জেলের দীর্ঘ ২০ দিন কারাভোগ করার ঘটনা ঘটেছে। মামলার প্রকৃত আসামির সঙ্গে নাম ও পিতার নাম হুবহু মিলে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে কারাগারে পাঠায়। অথচ একটু সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হলে এই নিরপরাধ ব্যক্তির কারাবাসের মতো অনভিপ্রেত পরিস্থিতির শিকার হওয়ার কথা ছিল না। আদালত সূত্রে জানা যায়, চেকের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত একটি পুরোনো মামলার জের ধরে এই ভুল বোঝাবুঝির সূত্রপাত হয়েছিল।

আদালতের নথি থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে এক ব্যবসায়ীর দায়ের করা পাওনা আদায়ের একটি চেক ডিজঅনার মামলায় আদালতে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। ওই মামলার মূল অভিযুক্ত এবং কারাগারে যাওয়া জলিল হাওলাদারের নাম ও পিতার নাম এক হলেও তাদের মাতা ও স্থায়ী গ্রামের ঠিকানায় ভিন্নতা রয়েছে। সম্প্রতি মহিপুর থানা পুলিশ পরোয়ানা তামিল করতে গিয়ে শুধুমাত্র নাম ও পিতার নাম মিলে যাওয়ার ভিত্তিতে তাকে আটক করে। পরবর্তীতে বিষয়টি স্পষ্ট হলে ভুক্তভোগী পরিবার চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং মুক্তির জন্য আইনি লড়াই শুরু করে।

ঘটনার আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৭ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলি আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক ভুক্তভোগী জলিল হাওলাদারের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে এই দায়িত্বহীন ভুলের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং মামলার বাদীকে পরবর্তী নির্দিষ্ট তারিখে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনজীবীরা মনে করছেন, পুলিশের এই গাফিলতির কারণে একজন নিরপরাধ মানুষকে অহেতুক আইনি লড়াই ও সামাজিক ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, পুলিশ প্রশাসন যদি গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরের পূর্বে আসামির পূর্ণাঙ্গ তথ্য যেমন মায়ের নাম, বয়স এবং সুনির্দিষ্ট ঠিকানা যাচাই করত, তবে এই ধরনের মারাত্মক ভুল এড়ানো সম্ভব হতো। পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সাজেদুল ইসলাম সজল জানিয়েছেন যে, পরোয়ানায় মায়ের নাম ও পূর্ণাঙ্গ পরিচয় না থাকায় অনিচ্ছাকৃত এই ভুল ঘটেছে এবং বিষয়টি জানার পর পুলিশই তার জামিনের সুপারিশ করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে আদালতের পরোয়ানায় আসামির নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংযুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী ছাড়াও ব্যক্তিত্বের রয়েছে আরও দুটি ধরন

নামের মিল থাকায় ২০ দিন কারাভোগ, ওসিকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

প্রকাশিত ১০:১৭:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালীতে মামলার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও ভুল পরিচয়ের কারণে মো. জলিল হাওলাদার নামের এক সাধারণ জেলের দীর্ঘ ২০ দিন কারাভোগ করার ঘটনা ঘটেছে। মামলার প্রকৃত আসামির সঙ্গে নাম ও পিতার নাম হুবহু মিলে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে কারাগারে পাঠায়। অথচ একটু সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হলে এই নিরপরাধ ব্যক্তির কারাবাসের মতো অনভিপ্রেত পরিস্থিতির শিকার হওয়ার কথা ছিল না। আদালত সূত্রে জানা যায়, চেকের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত একটি পুরোনো মামলার জের ধরে এই ভুল বোঝাবুঝির সূত্রপাত হয়েছিল।

আদালতের নথি থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে এক ব্যবসায়ীর দায়ের করা পাওনা আদায়ের একটি চেক ডিজঅনার মামলায় আদালতে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। ওই মামলার মূল অভিযুক্ত এবং কারাগারে যাওয়া জলিল হাওলাদারের নাম ও পিতার নাম এক হলেও তাদের মাতা ও স্থায়ী গ্রামের ঠিকানায় ভিন্নতা রয়েছে। সম্প্রতি মহিপুর থানা পুলিশ পরোয়ানা তামিল করতে গিয়ে শুধুমাত্র নাম ও পিতার নাম মিলে যাওয়ার ভিত্তিতে তাকে আটক করে। পরবর্তীতে বিষয়টি স্পষ্ট হলে ভুক্তভোগী পরিবার চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং মুক্তির জন্য আইনি লড়াই শুরু করে।

ঘটনার আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৭ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলি আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক ভুক্তভোগী জলিল হাওলাদারের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে এই দায়িত্বহীন ভুলের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং মামলার বাদীকে পরবর্তী নির্দিষ্ট তারিখে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনজীবীরা মনে করছেন, পুলিশের এই গাফিলতির কারণে একজন নিরপরাধ মানুষকে অহেতুক আইনি লড়াই ও সামাজিক ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, পুলিশ প্রশাসন যদি গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরের পূর্বে আসামির পূর্ণাঙ্গ তথ্য যেমন মায়ের নাম, বয়স এবং সুনির্দিষ্ট ঠিকানা যাচাই করত, তবে এই ধরনের মারাত্মক ভুল এড়ানো সম্ভব হতো। পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সাজেদুল ইসলাম সজল জানিয়েছেন যে, পরোয়ানায় মায়ের নাম ও পূর্ণাঙ্গ পরিচয় না থাকায় অনিচ্ছাকৃত এই ভুল ঘটেছে এবং বিষয়টি জানার পর পুলিশই তার জামিনের সুপারিশ করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে আদালতের পরোয়ানায় আসামির নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংযুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।