ঢাকা ১২:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বিমানকর্মীকে ঘুষি ও কামড়, হলিউড অভিনেত্রী সেলমা ব্লেয়ার গ্রেপ্তার Logo বছর শেষে মূল্যস্ফীতি উঠবে ১০.৯ শতাংশে: আইএমএফ Logo সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ আর নেই Logo ওমানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ Logo সাহিবজাদার হ্যাটট্রিক ফিফটি ছাপিয়ে মেন্ডিসের অপরাজিত ৮৭ Logo রাশিয়া, ইরান ও এআই এর হুমকি নিয়ে যুক্তরাজ্যকে গোয়েন্দা প্রধানের সতর্কবার্তা Logo মানসিক স্বাস্থ্যকে মন্ত্রণালয়ের আওতায় রেখে অগ্রগতি সম্ভব নয়: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo অপ্রতিম হত্যার বিচার ত্বরান্বিত করার দাবিতে কুবিতে মানববন্ধন  Logo ড. ইউনূসকে হয়রানি ও হেনস্তায় সাবেক ১২ উপদেষ্টার ক্ষোভ-নিন্দা Logo শরতের আবহে জাবিতে নবীনবরণ, নাট্যোৎসবে ‘বিধিবাম’ মঞ্চায়িত

মদ, নাচানাচি ও রাষ্ট্রের নৈতিক পাহারাদারি

অপরাধ ডেস্ক: সম্প্রতি ফেনী জেলার পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে একটি বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পূজায় কেউ মদ খেয়ে নাচানাচি করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং ঘাড় ধরে নিয়ে যাওয়া হবে। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মুখে এমন মন্তব্য একটি ধর্মীয় উৎসবকে মদ ও মাতলামির সঙ্গে জড়িয়ে ফেলার শামিল। অথচ পূজার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল কাজ হওয়া উচিত ছিল।

দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুর, হামলা ও সাম্প্রদায়িক উদ্বেগের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর যেন অন্যদিকে রয়েছে। অপরাধ দমন, চাঁদাবাজি রোধ বা নাশকতা ঠেকানোর চেয়ে নর্তক বা উৎসবকারীদের নিয়ে বেশি কথা বলা হচ্ছে। অথচ দুর্গাপূজা দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব, যার সঙ্গে আনন্দ, সংস্কৃতি ও সামাজিকতা জড়িত। মদ্যপানের বৈধতা দিয়ে রাষ্ট্র একদিকে যেমন রাজস্ব আয় করে, অন্যদিকে নাগরিকদের নৈতিকতা শেখাতে ব্যস্ত থাকে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো জনশান্তি বজায় রাখা এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে বা আইন ভঙ্গ করলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো ধর্মীয় উৎসবের আগে নাগরিকদের পোশাক, আচার বা আনন্দ করার ধরন নিয়ে নৈতিক পাহারাদারি করা পুলিশের কাজ নয়। পূজামণ্ডপে দাঁড়িয়ে এ ধরনের বক্তব্য মানুষের মনে নিরাপত্তার বদলে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক ও অস্বস্তি তৈরি করে।

মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গুজব প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চেয়ে নাচের ভঙ্গি নিয়ে কড়াকড়ি করা প্রশাসনের ভুল অগ্রাধিকারের প্রমাণ দেয়। প্রশাসনের এমন মনোযোগ অনেক সময় আসল অপরাধী ও দুর্বৃত্তদের আড়াল করতে সাহায্য করে। জনগণের করের টাকায় চলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তির আসল পরিমাপ হওয়া উচিত নাগরিকরা কতটা ভয়মুক্ত জীবনযাপন করতে পারছেন তার ওপর। তাই পুলিশ কর্মকর্তাদের চোখ অপরাধীর অপরাধের দিকে থাকা উচিত, উৎসবের আনন্দ বা নাচের তালের দিকে নয়।

জনপ্রিয়

বিমানকর্মীকে ঘুষি ও কামড়, হলিউড অভিনেত্রী সেলমা ব্লেয়ার গ্রেপ্তার

মদ, নাচানাচি ও রাষ্ট্রের নৈতিক পাহারাদারি

প্রকাশিত ০৪:৫২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: সম্প্রতি ফেনী জেলার পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে একটি বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পূজায় কেউ মদ খেয়ে নাচানাচি করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং ঘাড় ধরে নিয়ে যাওয়া হবে। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মুখে এমন মন্তব্য একটি ধর্মীয় উৎসবকে মদ ও মাতলামির সঙ্গে জড়িয়ে ফেলার শামিল। অথচ পূজার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল কাজ হওয়া উচিত ছিল।

দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুর, হামলা ও সাম্প্রদায়িক উদ্বেগের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর যেন অন্যদিকে রয়েছে। অপরাধ দমন, চাঁদাবাজি রোধ বা নাশকতা ঠেকানোর চেয়ে নর্তক বা উৎসবকারীদের নিয়ে বেশি কথা বলা হচ্ছে। অথচ দুর্গাপূজা দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব, যার সঙ্গে আনন্দ, সংস্কৃতি ও সামাজিকতা জড়িত। মদ্যপানের বৈধতা দিয়ে রাষ্ট্র একদিকে যেমন রাজস্ব আয় করে, অন্যদিকে নাগরিকদের নৈতিকতা শেখাতে ব্যস্ত থাকে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো জনশান্তি বজায় রাখা এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে বা আইন ভঙ্গ করলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো ধর্মীয় উৎসবের আগে নাগরিকদের পোশাক, আচার বা আনন্দ করার ধরন নিয়ে নৈতিক পাহারাদারি করা পুলিশের কাজ নয়। পূজামণ্ডপে দাঁড়িয়ে এ ধরনের বক্তব্য মানুষের মনে নিরাপত্তার বদলে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক ও অস্বস্তি তৈরি করে।

মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গুজব প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চেয়ে নাচের ভঙ্গি নিয়ে কড়াকড়ি করা প্রশাসনের ভুল অগ্রাধিকারের প্রমাণ দেয়। প্রশাসনের এমন মনোযোগ অনেক সময় আসল অপরাধী ও দুর্বৃত্তদের আড়াল করতে সাহায্য করে। জনগণের করের টাকায় চলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তির আসল পরিমাপ হওয়া উচিত নাগরিকরা কতটা ভয়মুক্ত জীবনযাপন করতে পারছেন তার ওপর। তাই পুলিশ কর্মকর্তাদের চোখ অপরাধীর অপরাধের দিকে থাকা উচিত, উৎসবের আনন্দ বা নাচের তালের দিকে নয়।