অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশি পোশাক প্রস্তুতকারকদের রপ্তানি করা পণ্যের প্রায় সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার দীর্ঘকাল ধরে বিদেশে আটকে রয়েছে। প্রতি ডলার ১২৫ টাকা হিসাব করলে এই অনাদায়ী অর্থের পরিমাণ প্রায় সাড়ে সাতাশি হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ১৯৯০ সাল থেকে গত ছত্রিশ বছর ধরে চলা এই সংকটের কারণে দেশের অনেক তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বিদেশি ক্রেতাদের প্রতারণা, দেউলিয়া হওয়া এবং রপ্তানি নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণে ত্রুটির কারণে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার এই বিশাল অংক দেশে না আসায় দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
বিজিএমইএ ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সময়ে দেশ থেকে প্রায় ছয়শ বিলিয়ন ডলারের পোশাক পণ্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে। তবে নথিতে ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকা এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে কাগজপত্র তৈরি হওয়ার কারণে রপ্তানি মূল্য ফেরত আসার প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রেতার অনুরোধে ব্যাংক সংক্রান্ত নথি ছাড়া পণ্য সরবরাহ করায় দেশীয় উদ্যোক্তারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পাঠানো পণ্যের প্রায় নব্বই শতাংশ কার্যক্রম ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় এই জটিলতা নিরসন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই দীর্ঘমেয়াদী সংকট নিরসনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বারবার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করলেও আশানুরূপ কোনো সমাধান পাননি। সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও স্মারকলিপি দিয়েছেন বিজিএমইএ ও বিভিন্ন চেম্বার নেতৃবৃন্দ। আটকে থাকা অর্থ উদ্ধারের জন্য এরই মধ্যে প্রায় একশটি মামলা দায়ের করা হলেও আইনি জটিলতা ও রিট আবেদনের কারণে সেগুলোর কার্যক্রম থমে গেছে। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানির প্রস্তুতি চলছে, যার রায়ের ওপর নির্ভর করছে অন্যান্য মামলার ভবিষ্যৎ।
১৯৮০-র দশকের পর থেকে দেশের পোশাক শিল্প দ্রুত প্রসার লাভ করে এবং বর্তমানে এই খাতে প্রায় চল্লিশ লাখ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। প্রতি বছর প্রায় চল্লিশ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে এই খাত দেশের অর্থনীতিতে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করছে। তবে বিদেশে আটকে থাকা বিশাল অংকের রপ্তানি মূল্য সফলভাবে দেশে ফেরত আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি প্রতিরোধ করা এখন শিল্পসংশ্লিষ্টদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্টদের মতে, নথিপত্র প্রস্তুতের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা এবং সরকারি নীতিমালার কঠোর প্রয়োগ ছাড়া এই বহুমুখী সংকটের স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব নয়।






































