ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তির বিবর্তনে জাপানে হারিয়ে যাচ্ছে আইকনিক ফ্লিপ ফোন

প্রযুক্তি ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনের জয়জয়কার থাকলেও জাপানে দীর্ঘ সময় ধরে ঐতিহ্যবাহী ফ্লিপ ফোন বা ফিচার ফোন নিজের স্বকীয়তা ধরে রেখেছিল। স্থানীয়ভাবে এই ডিভাইসগুলোকে ‘গারা-কেই’ বা ‘গ্যালাপাগোস কেইতাই’ নামে ডাকা হতো, যা জাপানি সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে মিশে ছিল। আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও বোতামওয়ালা কিবোর্ড, টেকসই বডি এবং ইনফ্রারেড ট্রান্সমিটারের মতো অনন্য সুবিধার কারণে এগুলো বেশ জনপ্রিয় ছিল। তবে সময়ের বিবর্তনে এবং গ্রাহকদের অভ্যাসে পরিবর্তন আসায় জাপানে এই আইকনিক ফোনগুলো এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে।

জাপানের মোবাইল অপারেটর ডোকোমোর একটি জরিপ অনুযায়ী, ২০২১ সালে মোবাইল ব্যবহারকারীদের ৯০ শতাংশের হাতে স্মার্টফোন থাকলেও ২০২৫ সালের মধ্যে সেই হার ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া গবেষণা সংস্থা এমএম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম অর্ধবার্ষিকীতে দেশটির ফিচার ফোনের চালান ২৫ শতাংশের বেশি কমে চার লাখ ইউনিটের নিচে নেমে গেছে। কম খরচের ডেটা প্যাকেজ ও নানা ধরনের ইউটিলিটি সুবিধার কারণে একসময় এসব ফোন জীবনযাত্রার অপরিহার্য অংশ হলেও এখন চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

প্রবীণ নাগরিকদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের হার বৃদ্ধি এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে। টোকিও প্রশাসন ২০২১ সালে প্রবীণদের মধ্যে হাজার হাজার স্মার্টফোন বিতরণ করেছিল এবং ডোকোমো স্টোরগুলোতে বয়স্কদের স্মার্টফোন ব্যবহারে সহায়তার জন্য বিশেষ ক্লাসের আয়োজন করা হচ্ছে। তাছাড়া দেশটির প্রধান মোবাইল অপারেটরগুলো একে একে থ্রিজি সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এই ফিচার ফোনগুলোর ভবিষ্যৎ পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কোম্পানি তরুণ প্রজন্মের নস্টালজিয়াকে কাজে লাগিয়ে ‘লাইট ফ্লিপ’ ফোন বাজারে আনার চেষ্টা করলেও সামগ্রিক বাজার এখন পুরোপুরি স্মার্টফোনের দখলে। জাপানে থ্রিজি নেটওয়ার্ক বন্ধ হওয়ার ফলে কেবল মোবাইল ফোনই নয়, বরং গাড়ি ন্যাভিগেশন সিস্টেম ও বিভিন্ন ভেন্ডিং মেশিনের কার্যক্রমও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর মাধ্যমেই মূলত জাপানে এমন একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে, যারা একসময় ফিচার ফোনের বোতাম টিপে বিশ্ববাসীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিল।

জনপ্রিয়

গালে ক্রিম না পাউডার ব্লাশ?

প্রযুক্তির বিবর্তনে জাপানে হারিয়ে যাচ্ছে আইকনিক ফ্লিপ ফোন

প্রকাশিত ০৩:০৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনের জয়জয়কার থাকলেও জাপানে দীর্ঘ সময় ধরে ঐতিহ্যবাহী ফ্লিপ ফোন বা ফিচার ফোন নিজের স্বকীয়তা ধরে রেখেছিল। স্থানীয়ভাবে এই ডিভাইসগুলোকে ‘গারা-কেই’ বা ‘গ্যালাপাগোস কেইতাই’ নামে ডাকা হতো, যা জাপানি সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে মিশে ছিল। আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও বোতামওয়ালা কিবোর্ড, টেকসই বডি এবং ইনফ্রারেড ট্রান্সমিটারের মতো অনন্য সুবিধার কারণে এগুলো বেশ জনপ্রিয় ছিল। তবে সময়ের বিবর্তনে এবং গ্রাহকদের অভ্যাসে পরিবর্তন আসায় জাপানে এই আইকনিক ফোনগুলো এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে।

জাপানের মোবাইল অপারেটর ডোকোমোর একটি জরিপ অনুযায়ী, ২০২১ সালে মোবাইল ব্যবহারকারীদের ৯০ শতাংশের হাতে স্মার্টফোন থাকলেও ২০২৫ সালের মধ্যে সেই হার ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া গবেষণা সংস্থা এমএম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম অর্ধবার্ষিকীতে দেশটির ফিচার ফোনের চালান ২৫ শতাংশের বেশি কমে চার লাখ ইউনিটের নিচে নেমে গেছে। কম খরচের ডেটা প্যাকেজ ও নানা ধরনের ইউটিলিটি সুবিধার কারণে একসময় এসব ফোন জীবনযাত্রার অপরিহার্য অংশ হলেও এখন চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

প্রবীণ নাগরিকদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের হার বৃদ্ধি এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে। টোকিও প্রশাসন ২০২১ সালে প্রবীণদের মধ্যে হাজার হাজার স্মার্টফোন বিতরণ করেছিল এবং ডোকোমো স্টোরগুলোতে বয়স্কদের স্মার্টফোন ব্যবহারে সহায়তার জন্য বিশেষ ক্লাসের আয়োজন করা হচ্ছে। তাছাড়া দেশটির প্রধান মোবাইল অপারেটরগুলো একে একে থ্রিজি সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এই ফিচার ফোনগুলোর ভবিষ্যৎ পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কোম্পানি তরুণ প্রজন্মের নস্টালজিয়াকে কাজে লাগিয়ে ‘লাইট ফ্লিপ’ ফোন বাজারে আনার চেষ্টা করলেও সামগ্রিক বাজার এখন পুরোপুরি স্মার্টফোনের দখলে। জাপানে থ্রিজি নেটওয়ার্ক বন্ধ হওয়ার ফলে কেবল মোবাইল ফোনই নয়, বরং গাড়ি ন্যাভিগেশন সিস্টেম ও বিভিন্ন ভেন্ডিং মেশিনের কার্যক্রমও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর মাধ্যমেই মূলত জাপানে এমন একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে, যারা একসময় ফিচার ফোনের বোতাম টিপে বিশ্ববাসীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিল।