ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ইউনূসকে হেনস্তা: এমন আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে, বললেন তাহের

রাজনীতি ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। সম্প্রতি নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার সময় তার পথ রোধ করা হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির দৃশ্য প্রকাশ পায়।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন নেতার একটি দল ড. ইউনূসের সামনে এসে দাঁড়ান। পরিস্থিতি সামাল দিতে সে সময় তাকে দ্রুত হুইলচেয়ার ঘুরিয়ে আবার টার্মিনালের ভেতরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত হেনস্তাকারীরা তার পিছু নেন এবং তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে উচ্চস্বরে চিৎকার করতে থাকেন। এই অনভিপ্রেত ঘটনার পর থেকেই প্রবাস ও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জামায়াত নেতা তাহের বলেন, বিশ্ববাসীর কাছে অত্যন্ত সম্মানীয় নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের সাথে এমন আচরণ কেবল একজন ব্যক্তিকে অসম্মান করা নয়। বরং এর মাধ্যমে দেশের সব নাগরিক এবং একটি রাষ্ট্র হিসেবে পুরো বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে খাটো ও অপমানিত করা হয়েছে। দেশের মানমর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে বিদেশের মাটিতে সম্মানিত ব্যক্তিদের সাথে এই ধরনের নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কারোর জন্যই সমীচীন নয়। ফ্যাসিস্টদের দোসররা এই হীন কাজ করেছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পরও বিদেশের মাটিতে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। তারা বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী এবং সফররত দেশপ্রেমিক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। দেশের শান্তিকামী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের এই সব ষড়যন্ত্র শক্ত হাতে রুখে দিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাই কমিশনসমূহের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

জনপ্রিয়

‘এসএসসিতে ২ বিষয়ে ফেল করলেও ১৫ দিনের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা’

ইউনূসকে হেনস্তা: এমন আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে, বললেন তাহের

প্রকাশিত ০৪:০৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। সম্প্রতি নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার সময় তার পথ রোধ করা হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির দৃশ্য প্রকাশ পায়।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন নেতার একটি দল ড. ইউনূসের সামনে এসে দাঁড়ান। পরিস্থিতি সামাল দিতে সে সময় তাকে দ্রুত হুইলচেয়ার ঘুরিয়ে আবার টার্মিনালের ভেতরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত হেনস্তাকারীরা তার পিছু নেন এবং তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে উচ্চস্বরে চিৎকার করতে থাকেন। এই অনভিপ্রেত ঘটনার পর থেকেই প্রবাস ও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জামায়াত নেতা তাহের বলেন, বিশ্ববাসীর কাছে অত্যন্ত সম্মানীয় নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের সাথে এমন আচরণ কেবল একজন ব্যক্তিকে অসম্মান করা নয়। বরং এর মাধ্যমে দেশের সব নাগরিক এবং একটি রাষ্ট্র হিসেবে পুরো বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে খাটো ও অপমানিত করা হয়েছে। দেশের মানমর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে বিদেশের মাটিতে সম্মানিত ব্যক্তিদের সাথে এই ধরনের নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কারোর জন্যই সমীচীন নয়। ফ্যাসিস্টদের দোসররা এই হীন কাজ করেছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পরও বিদেশের মাটিতে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। তারা বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী এবং সফররত দেশপ্রেমিক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। দেশের শান্তিকামী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের এই সব ষড়যন্ত্র শক্ত হাতে রুখে দিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাই কমিশনসমূহের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।