রাজনীতি ডেস্ক: দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতারা মেয়েদের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স কমানোর জন্য লবিং ও তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি রাজধানীর বনানীতে একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক যুগে এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে প্রাচীন সভ্যতার সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে একবিংশ শতাব্দীর কোনো মিল নেই বলে মন্তব্য করেন। চার হাজার বছর আগের মিসর কিংবা আড়াই হাজার বছর আগের গ্রিসের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা চলে না বলে তিনি মনে করেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক নেতাদের এই ধরনের অবস্থানের পেছনে কী যুক্তি রয়েছে, তা তথ্য ও জ্ঞানভিত্তিক উপায়ে সমাজের সামনে উন্মোচন করা সরকারের দায়িত্ব। পাশাপাশি, এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং গণমাধ্যমকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
নারীর টেকসই ক্ষমতায়ন কেবল কর্মসংস্থান বা পেশাগত প্রশিক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। নারীর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, যোগাযোগদক্ষতা অর্জন, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং সমাজ ও পরিবারের মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন সমান জরুরি। বাল্যবিয়ে রোধে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, পারিবারিক নিরাপত্তাহীনতা এবং সামাজিক চাপের মতো মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর তিনি জোর দেন।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে অবস্থান করা প্রান্তিক কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। এই ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বাধীনভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে। অনুষ্ঠানে ইউনিসেফ ও কোইকা বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ছাড়াও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







































