ঢাকা ০১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ক্লাসের বাইরেও শিক্ষার্থীদের পড়ান তিনি

সারাদেশ ডেস্ক: চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাচার বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ইংরেজির সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বিশ্ব শিক্ষক দিবসে মাধ্যমিক পর্যায়ে গুণী শিক্ষক সম্মাননা পেয়েছেন। সম্প্রতি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র তুলে দেওয়া হয়। ছাত্রছাত্রীদের সফল ভবিষ্যৎ গঠন এবং তাদের স্বপ্নপূরণের পথে সাহস জোগানোই তার জীবনের ব্রত। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শেষ হলেও কোনো শিক্ষার্থী পড়া বুঝতে না পারলে তিনি তাদের বাইরে ডেকে নিয়ে বুঝিয়ে দেন। শিক্ষার প্রসারে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা অর্জন করেছেন তিনি।

১৯৯৪ সালে এসএসসি এবং ১৯৯৬ সালে এইচএসসিতে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কচুয়ার সাচার গ্রামের আক্কাছ আলীর ছেলে জসীম উদ্দিন পারিবারিক দারিদ্র্যের কারণে ছাত্রজীবনে টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছিলেন। নিজের জীবনের সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তাকে শিক্ষার্থীদের সমস্যা গভীরভাবে অনুধাবন করতে শিখিয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীর বিপদে পাশে দাঁড়ানোকে তিনি শিক্ষকতার একটি স্বাভাবিক অংশ বলে মনে করেন।

শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের শুরুতে তিনি হাস্যোজ্জ্বলভাবে শৃঙ্খলা, সময়ের মূল্য এবং বড়দের প্রতি শ্রদ্ধার মতো বিভিন্ন নৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর নিজের প্রস্তুতি ও ভিন্নধারার অভিজ্ঞতা দিয়ে ইংরেজি বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছে সহজ করে তোলেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন মোল্লা জানিয়েছেন, তার আধুনিক ও দলভিত্তিক পাঠদান পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি বটুকৃষ্ণ বসু এবং স্থানীয় অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থীরাও তার এই অর্জনে গর্ব প্রকাশ করেছেন।

এই সম্মাননা পাওয়ার পর জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে শিক্ষক হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ আরও অনেক বেড়ে গেছে। ছাত্র-শিক্ষকের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং সরকারের সমর্থনে দেশের বিদ্যালয়গুলোকে আরও এগিয়ে নিতে চান তিনি। তার মতে, সঠিক পাঠদান ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করা সম্ভব, যারা আগামীর বাংলাদেশ গড়বে। মানুষ তার কর্মের মাঝেই বেঁচে থাকে এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদা সময় দেওয়াই তার মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জনপ্রিয়

প্রকাশ্যে এল ১১৪ বছর আগে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের পত্রালাপ

ক্লাসের বাইরেও শিক্ষার্থীদের পড়ান তিনি

প্রকাশিত ১১:৩৭:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

সারাদেশ ডেস্ক: চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাচার বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ইংরেজির সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বিশ্ব শিক্ষক দিবসে মাধ্যমিক পর্যায়ে গুণী শিক্ষক সম্মাননা পেয়েছেন। সম্প্রতি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র তুলে দেওয়া হয়। ছাত্রছাত্রীদের সফল ভবিষ্যৎ গঠন এবং তাদের স্বপ্নপূরণের পথে সাহস জোগানোই তার জীবনের ব্রত। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শেষ হলেও কোনো শিক্ষার্থী পড়া বুঝতে না পারলে তিনি তাদের বাইরে ডেকে নিয়ে বুঝিয়ে দেন। শিক্ষার প্রসারে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা অর্জন করেছেন তিনি।

১৯৯৪ সালে এসএসসি এবং ১৯৯৬ সালে এইচএসসিতে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কচুয়ার সাচার গ্রামের আক্কাছ আলীর ছেলে জসীম উদ্দিন পারিবারিক দারিদ্র্যের কারণে ছাত্রজীবনে টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছিলেন। নিজের জীবনের সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তাকে শিক্ষার্থীদের সমস্যা গভীরভাবে অনুধাবন করতে শিখিয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীর বিপদে পাশে দাঁড়ানোকে তিনি শিক্ষকতার একটি স্বাভাবিক অংশ বলে মনে করেন।

শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের শুরুতে তিনি হাস্যোজ্জ্বলভাবে শৃঙ্খলা, সময়ের মূল্য এবং বড়দের প্রতি শ্রদ্ধার মতো বিভিন্ন নৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর নিজের প্রস্তুতি ও ভিন্নধারার অভিজ্ঞতা দিয়ে ইংরেজি বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছে সহজ করে তোলেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন মোল্লা জানিয়েছেন, তার আধুনিক ও দলভিত্তিক পাঠদান পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি বটুকৃষ্ণ বসু এবং স্থানীয় অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থীরাও তার এই অর্জনে গর্ব প্রকাশ করেছেন।

এই সম্মাননা পাওয়ার পর জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে শিক্ষক হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ আরও অনেক বেড়ে গেছে। ছাত্র-শিক্ষকের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং সরকারের সমর্থনে দেশের বিদ্যালয়গুলোকে আরও এগিয়ে নিতে চান তিনি। তার মতে, সঠিক পাঠদান ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করা সম্ভব, যারা আগামীর বাংলাদেশ গড়বে। মানুষ তার কর্মের মাঝেই বেঁচে থাকে এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদা সময় দেওয়াই তার মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।