ঢাকা ০২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সরকারকে অস্থিতিশীল করতে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী Logo ঘোড়া যেভাবে মানুষের সঙ্গী হল Logo সংবাদপত্রে সরকারি বিজ্ঞাপনের নতুন মূল্যহার নির্ধারণ Logo দোকান বন্ধের কর্মসূচি প্রত্যাহার না করলে এলপিজি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: জ্বালানি মন্ত্রী Logo সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ১৯ অক্টোবর বন্ধ থাকবে Logo প্রকাশ্যে এল ১১৪ বছর আগে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের পত্রালাপ Logo ‘বাল্যবিয়ে রোধে মেয়েদের শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে’ Logo ময়মনসিংহে স্কুলের অফিসকক্ষে দুই শিক্ষকের ধস্তাধস্তির ভিডিও ভাইরাল, নেপথ্যে কী? Logo মঙ্গলে গাড়ি চালনায় রেকর্ড গড়ল নাসার রোভার ‘পার্সিভ্যারেন্স’ Logo শরীরে পানির ঘাটতি হলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়

ময়মনসিংহে স্কুলের অফিসকক্ষে দুই শিক্ষকের ধস্তাধস্তির ভিডিও ভাইরাল, নেপথ্যে কী?

সারাদেশ ডেস্ক: ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে দুই শিক্ষকের ধস্তাধস্তি ও মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন এবং সহকারী শিক্ষক আসমা বেগম এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। সম্পর্কে তারা স্বামী-স্ত্রী এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে বিদ্যালয়ের ভেতরেই এই মারামারির ঘটনা ঘটে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে এই দম্পতির বিয়ে হয় এবং বর্তমানে তাদের এক কন্যা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে তারা আলাদা বসবাস করছেন এবং তাদের এই পারিবারিক বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। ২০১১ সালের দিকে তারা দুজনেই একই বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন নিজেই স্বীকার করেছেন যে পারিবারিক বিরোধের কারণেই সেদিন তাদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এমনকি তিনি নিজেই সহকর্মীদের দিয়ে এই মারামারির ভিডিওটি ধারণ করিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।

ঘটনাটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের নজরে আসে। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন বিদ্যালয়ের ভেতরে এমন আচরণ করা ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো একটি পবিত্র স্থানে শিক্ষক দম্পতির এমন আচার-আচরণ নিয়ে সব মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাটি কিছুদিন আগের হলেও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তা তাদের নজরে এসেছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে এমন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় নাগরিক সংগঠন ‘ময়মনসিংহ মঞ্চ’। সংগঠনটির মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ভিডিওটি দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, শিক্ষকদের এ ধরনের অপ্রত্যাশিত আচরণ বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিকতায় অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জনপ্রিয়

সরকারকে অস্থিতিশীল করতে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী

ময়মনসিংহে স্কুলের অফিসকক্ষে দুই শিক্ষকের ধস্তাধস্তির ভিডিও ভাইরাল, নেপথ্যে কী?

প্রকাশিত ১২:৫২:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

সারাদেশ ডেস্ক: ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে দুই শিক্ষকের ধস্তাধস্তি ও মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন এবং সহকারী শিক্ষক আসমা বেগম এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। সম্পর্কে তারা স্বামী-স্ত্রী এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে বিদ্যালয়ের ভেতরেই এই মারামারির ঘটনা ঘটে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে এই দম্পতির বিয়ে হয় এবং বর্তমানে তাদের এক কন্যা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে তারা আলাদা বসবাস করছেন এবং তাদের এই পারিবারিক বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। ২০১১ সালের দিকে তারা দুজনেই একই বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন নিজেই স্বীকার করেছেন যে পারিবারিক বিরোধের কারণেই সেদিন তাদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এমনকি তিনি নিজেই সহকর্মীদের দিয়ে এই মারামারির ভিডিওটি ধারণ করিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।

ঘটনাটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের নজরে আসে। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন বিদ্যালয়ের ভেতরে এমন আচরণ করা ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো একটি পবিত্র স্থানে শিক্ষক দম্পতির এমন আচার-আচরণ নিয়ে সব মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাটি কিছুদিন আগের হলেও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তা তাদের নজরে এসেছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে এমন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় নাগরিক সংগঠন ‘ময়মনসিংহ মঞ্চ’। সংগঠনটির মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ভিডিওটি দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, শিক্ষকদের এ ধরনের অপ্রত্যাশিত আচরণ বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিকতায় অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।