ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ‘মাদার অব অল বম্বস’ দিয়ে ইরানে হামলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র Logo রোহিঙ্গা শিশুদের অপহরণের টোপ ‘খেলার সাথী’ Logo ঢাকায় ‘প্রমিথিউস’ ব্যান্ডের পুনর্মিলনী, স্মৃতিচারণায় চার দশক Logo ময়মনসিংহে স্কুলে মারামারি: ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, বদলির সুপারিশ Logo দুর্নীতি মামলা: আসাদুজ্জামান নূর-জ্যাকবের মামলায় প্রতিবেদন জমার দিন পেছাল Logo কেন এমন অসময়ে চলে গেলেন,তৌফিক? Logo চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে মার্কিন ৮ অঙ্গরাজ্যের নজিরবিহীন মামলা Logo মুন্সীগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপমন্ত্রী আব্দুল হাইয়ের জীবনাবসান Logo দেশে শীত নামবে কবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর Logo রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে মার্কিন ৮ অঙ্গরাজ্যের নজিরবিহীন মামলা

প্রযুক্তি ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি তরুণদের আত্মঘাতী পদক্ষেপ ও সহিংসতায় উৎসাহিত করছে—এমন অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটটি অঙ্গরাজ্য যৌথভাবে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। আইওয়া, কানসাস, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, আইডাহো, মনটানা, নেবরাস্কা ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলরা নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের আদালতে সম্প্রতি এই মামলাগুলো দায়ের করেছেন। মার্কিন এই অঙ্গরাজ্যগুলোর জোটে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাই অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। জোটের অভিযোগ, চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির ছক আঁকতে সাহায্য করছে এবং নৃশংস সহিংসতা চালাতে উৎসাহ দিচ্ছে।

আদালতে জমা দেওয়া নথিতে জানানো হয়েছে, চ্যাটজিপিটিকে এমন প্রলোভন ও তোষামোদের কৌশলে তৈরি করা হয়েছে যা সহজেই ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করতে পারে। এই চ্যাটবটটি ব্যবহারকারীদের মানসিক বিভ্রমকে উসকে দিচ্ছে এবং নির্বিচারে গুলির মতো ভয়াবহ সহিংসতার বিশদ পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করছে। এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল প্রথম মার্কিন অঙ্গরাজ্য হিসেবে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে কাছাকাছি অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। বর্তমানে শেয়ার বাজারে শেয়ার ছাড়ার জোর প্রস্তুতির মধ্যে থাকা ওপেনএআইয়ের জন্য এই সমন্বিত আইনি পদক্ষেপকে অন্যতম বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নতুন দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা এবং গ্রাহক সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের সরাসরি অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রশাসন চ্যাটবটটির এই অনিয়ন্ত্রিত ক্ষতিকর আচরণকে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, গ্রাহকদের নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করে কোম্পানিটি সমাজে এক ধরনের জনউপদ্রব তৈরি করেছে। এই যৌথ মামলার বাইরেও ওপেনএআই বর্তমানে ব্যক্তি ও ভুক্তভোগীদের দায়ের করা আরও বেশ কয়েকটি মামলার মুখোমুখি রয়েছে।

অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রশাসন কেবল আর্থিক জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তারা চ্যাটজিপিটি পরিচালনার পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার জন্য আদালতের আদেশের আবেদন জানিয়েছে। তারা এমন কোনো এআই মডেল তৈরির অনুমতি না দেওয়ার অনুরোধ করেছে যা মানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রয়টার্সের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ করা হলেও ওপেনএআই তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। এআই খাতের শীর্ষ এই কোম্পানির বিরুদ্ধে এমন নজিরবিহীন আইনি লড়াই ভবিষ্যতে প্রযুক্তি খাতের নিয়মনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয়

‘মাদার অব অল বম্বস’ দিয়ে ইরানে হামলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে মার্কিন ৮ অঙ্গরাজ্যের নজিরবিহীন মামলা

প্রকাশিত ০৩:২২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি তরুণদের আত্মঘাতী পদক্ষেপ ও সহিংসতায় উৎসাহিত করছে—এমন অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটটি অঙ্গরাজ্য যৌথভাবে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। আইওয়া, কানসাস, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, আইডাহো, মনটানা, নেবরাস্কা ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলরা নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের আদালতে সম্প্রতি এই মামলাগুলো দায়ের করেছেন। মার্কিন এই অঙ্গরাজ্যগুলোর জোটে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাই অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। জোটের অভিযোগ, চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির ছক আঁকতে সাহায্য করছে এবং নৃশংস সহিংসতা চালাতে উৎসাহ দিচ্ছে।

আদালতে জমা দেওয়া নথিতে জানানো হয়েছে, চ্যাটজিপিটিকে এমন প্রলোভন ও তোষামোদের কৌশলে তৈরি করা হয়েছে যা সহজেই ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করতে পারে। এই চ্যাটবটটি ব্যবহারকারীদের মানসিক বিভ্রমকে উসকে দিচ্ছে এবং নির্বিচারে গুলির মতো ভয়াবহ সহিংসতার বিশদ পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করছে। এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল প্রথম মার্কিন অঙ্গরাজ্য হিসেবে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে কাছাকাছি অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। বর্তমানে শেয়ার বাজারে শেয়ার ছাড়ার জোর প্রস্তুতির মধ্যে থাকা ওপেনএআইয়ের জন্য এই সমন্বিত আইনি পদক্ষেপকে অন্যতম বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নতুন দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা এবং গ্রাহক সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের সরাসরি অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রশাসন চ্যাটবটটির এই অনিয়ন্ত্রিত ক্ষতিকর আচরণকে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, গ্রাহকদের নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করে কোম্পানিটি সমাজে এক ধরনের জনউপদ্রব তৈরি করেছে। এই যৌথ মামলার বাইরেও ওপেনএআই বর্তমানে ব্যক্তি ও ভুক্তভোগীদের দায়ের করা আরও বেশ কয়েকটি মামলার মুখোমুখি রয়েছে।

অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রশাসন কেবল আর্থিক জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তারা চ্যাটজিপিটি পরিচালনার পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার জন্য আদালতের আদেশের আবেদন জানিয়েছে। তারা এমন কোনো এআই মডেল তৈরির অনুমতি না দেওয়ার অনুরোধ করেছে যা মানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রয়টার্সের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ করা হলেও ওপেনএআই তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। এআই খাতের শীর্ষ এই কোম্পানির বিরুদ্ধে এমন নজিরবিহীন আইনি লড়াই ভবিষ্যতে প্রযুক্তি খাতের নিয়মনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।