ডেস্ক রিপোর্ট: পর্দা উঠেছে ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত নিয়োগ নিয়ে নতুন সংকটের যেখানে সুপারিশ পেয়েও গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দাবি করেছেন। নিজেদের গেজেটভুক্তির বিষয়ে আগামী শনিবার সকাল দশটার মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন থেকে এই আলটিমেটাম দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না মিললে তারা আত্মহুতি কর্মসূচিতে যাওয়ার মতো কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সব ধাপ সফলভাবে পেরিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও তাদের নাম গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার পেছনে কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকা কিংবা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে এভাবে বাদ দেওয়ার নিয়ম নেই বলে তারা দাবি করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রার্থীরা নিজেদের জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধের প্রমাণ নেই। ৪৪তম বিসিএসে আনসার ক্যাডারে চাকরিরত অবস্থায় ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নূরে আলম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী এবং প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত একরাম গাজী হৃদয় মানববন্ধনে সরকারের কাছে ন্যায়বিচার ও মেধার মূল্যায়নের দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অতীতে আশ্বাস দিয়েছিলেন রাজনৈতিক কারণে কাউকে গেজেটবঞ্চিত করা হবে না এবং তাদের কেউ দেশদ্রোহী বা জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। প্রার্থীরা আশা প্রকাশ করেন যে বর্তমান প্রশাসন তরুণ সমাজের মেধার সঠিক মূল্যায়ন করে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। বিগত চার বছর ধরে চলা এই বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে যেখানে বিভিন্ন ক্যাডারে ১৭০২ জন প্রার্থীকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়। দীর্ঘ চার বছর আগে শুরু হওয়া এই বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। গত বছর জুলাই থেকে শুরু হওয়া মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ২৬ নভেম্বর পিএসসি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে ১৮০৭ জনকে সুপারিশ করেছিল। দীর্ঘ দশ মাসেরও বেশি সময় অপেক্ষার পর প্রকাশিত সেই গেজেট থেকে ১০৫ জন প্রার্থী বাদ পড়ায় নতুন করে এই অসন্তোষ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে।





































