ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

চলনবিল এখন অচেনা, কেন এই অবস্থা, বিপদ কোথায়

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: দেশের অন্যতম বিশাল জলাভূমি চলনবিল এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির সম্ভাবনা অত্যন্ত কম বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের গবেষকদের এই গবেষণাটি ‘ডিসকভার জিওসায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নভূমি নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির প্রাচুর্য দিন দিন কমে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও বলছেন, অতীতে বছরের বেশিরভাগ সময় পানিতে পূর্ণ থাকা এই বিল এখন শুষ্ক মৌসুমে প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়ে।

গবেষণাটি সম্পন্ন করতে গবেষকেরা স্যাটেলাইটের ছবি, ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা এবং ১৭ ধরনের প্রাকৃতিক ও ভূতাত্ত্বিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বৃষ্টিপাত, মাটির ধরন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর, জলাধারের গভীরতা এবং নদীর দূরত্ব। গবেষণার আওতাভুক্ত প্রায় ৫ হাজার ৯৭ বর্গকিলোমিটার এলাকার মাত্র ১ শতাংশে ভূগর্ভস্থ পানির সম্ভাবনা খুব বেশি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ৭৭ শতাংশ এলাকায় মাঝারি এবং ২২ শতাংশ এলাকায় এই সম্ভাবনা কম রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, চলনবিলের ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণে মাটির নিচের কাদামাটির স্তর প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এই সংকটকে ত্বরান্বিত করছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলে বোরো মৌসুমে সেচযন্ত্রের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পানির স্তর আরও নিচে নামিয়ে দিচ্ছে। পদ্ম ও যমুনার মতো প্রধান নদগুলোর প্রবাহ হ্রাস পাওয়াও এই পরিবেশগত অবনতির জন্য দায়ী।

এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে কৃষিকাজে সেচ খরচ বাড়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গবেষক ও শিক্ষাবিদরা বলছেন, জলাভূমি রক্ষায় ভূগর্ভস্থ পানির টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে এই অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে পারে।

জনপ্রিয়

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সরকারি উদ্যোগে ‘নির্ভরতা কমিয়ে’ সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

চলনবিল এখন অচেনা, কেন এই অবস্থা, বিপদ কোথায়

প্রকাশিত ১১:৫২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: দেশের অন্যতম বিশাল জলাভূমি চলনবিল এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির সম্ভাবনা অত্যন্ত কম বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের গবেষকদের এই গবেষণাটি ‘ডিসকভার জিওসায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নভূমি নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির প্রাচুর্য দিন দিন কমে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও বলছেন, অতীতে বছরের বেশিরভাগ সময় পানিতে পূর্ণ থাকা এই বিল এখন শুষ্ক মৌসুমে প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়ে।

গবেষণাটি সম্পন্ন করতে গবেষকেরা স্যাটেলাইটের ছবি, ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা এবং ১৭ ধরনের প্রাকৃতিক ও ভূতাত্ত্বিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বৃষ্টিপাত, মাটির ধরন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর, জলাধারের গভীরতা এবং নদীর দূরত্ব। গবেষণার আওতাভুক্ত প্রায় ৫ হাজার ৯৭ বর্গকিলোমিটার এলাকার মাত্র ১ শতাংশে ভূগর্ভস্থ পানির সম্ভাবনা খুব বেশি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ৭৭ শতাংশ এলাকায় মাঝারি এবং ২২ শতাংশ এলাকায় এই সম্ভাবনা কম রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, চলনবিলের ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণে মাটির নিচের কাদামাটির স্তর প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এই সংকটকে ত্বরান্বিত করছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলে বোরো মৌসুমে সেচযন্ত্রের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পানির স্তর আরও নিচে নামিয়ে দিচ্ছে। পদ্ম ও যমুনার মতো প্রধান নদগুলোর প্রবাহ হ্রাস পাওয়াও এই পরিবেশগত অবনতির জন্য দায়ী।

এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে কৃষিকাজে সেচ খরচ বাড়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গবেষক ও শিক্ষাবিদরা বলছেন, জলাভূমি রক্ষায় ভূগর্ভস্থ পানির টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে এই অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে পারে।