ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

কবি নূরুল হকের ছাত্রজীবনে লেখা কবিতা

সাহিত্য ডেস্ক: বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি নূরুল হকের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠকালীন জীবনের শুরুর দিকে রচিত কিছু কবিতামালা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর সন্তান চরু হকের ভূমিকা ও সম্পাদনায় ‘পথলিপি’ থেকে এই সংকলনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। ১৯৪৪ সালের ২৫ নভেম্বর জন্ম নেওয়া এই কবি ২০২১ সালের ২২ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা নূরুল হক তাঁর পেশাগত জীবনে সরকারি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে মাতৃভূমির ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন।

কবির কবিতায় যাপিত জীবনের আঘাত, অর্জন ও প্রজ্ঞানসমূহ অত্যন্ত গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের শ্রেণীবিন্যাস অনুযায়ী তিনি কেবল রচনার কলাকৌশল ও আঙ্গিক নিয়ে ব্যস্ত থাকা সাহিত্যজগতের কবি নন, বরং জগতের মূল প্রস্রবণ থেকে কবিতার সারবস্তু তুলে আনা বিশ্বজগতের কবি। রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক প্রতিটি বিষয়কেই তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে কবিতায় রূপ দিয়েছেন। তাঁর কবিতায় সময় ও যাপিত জীবনের অভিজ্ঞান পরম দরদী ভাষায় জীবনের সৌন্দর্য ও অতলতাকে স্পর্শ করেছে। কবিত্বের বিকিরণের পাশাপাশি বলার সহজতা ও অভিজ্ঞতার অপূর্বতায় তাঁর কবিতা হয়ে উঠেছে জীবনের ছায়াতল।

প্রকাশিত এই কবিতামালায় কবির অন্তর্দৃষ্টি, জীবনবোধ এবং পারিপার্শ্বিকতার নানা রূপ শৈল্পিক সুষমায় ফুটে উঠেছে। সংকলিত কবিতাগুলোতে মরমী দুনিয়ার আগমন, সুন্দরের প্রারম্ভ, হৃদয়ের আকুতি এবং প্রকৃতির বিভিন্ন রূপ অত্যন্ত নিপুণভাবে উঠে এসেছে। জীবনের জল, সুন্দরের ঘন্টা, জতুগৃহ, বাঁশি ও নীচলের রূপরেখার মতো অনুষঙ্গগুলো তাঁর কাব্যভাষার অনন্য বৈশিষ্ট্য বহন করে। এই পঙক্তিগুলো কবির অন্তর্লোক এবং তাঁর সৃজনশীল মানস গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ের পরিচয় তুলে ধরে।

বাংলা কবিতার ধারায় ষাটের দশকের এই কবির আত্মপ্রকাশ এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম আজও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। অঞ্জলিশোভন খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত এই কবির সৃষ্টিকর্ম বাংলা পদ্যের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এই আদি রচনাগুলো পাঠকদের কেবল নস্টালজিক করবে না, বরং একজন প্রতিভাবান কবির সৃষ্টিপ্রক্রিয়ার শেকড় সন্ধানেও সাহায্য করবে।

জনপ্রিয়

পূজার ছুটিতে মেট্রোরেল চলাচলের নতুন সময়সূচি

কবি নূরুল হকের ছাত্রজীবনে লেখা কবিতা

প্রকাশিত ১১:২২:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সাহিত্য ডেস্ক: বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি নূরুল হকের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠকালীন জীবনের শুরুর দিকে রচিত কিছু কবিতামালা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর সন্তান চরু হকের ভূমিকা ও সম্পাদনায় ‘পথলিপি’ থেকে এই সংকলনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। ১৯৪৪ সালের ২৫ নভেম্বর জন্ম নেওয়া এই কবি ২০২১ সালের ২২ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা নূরুল হক তাঁর পেশাগত জীবনে সরকারি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে মাতৃভূমির ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন।

কবির কবিতায় যাপিত জীবনের আঘাত, অর্জন ও প্রজ্ঞানসমূহ অত্যন্ত গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের শ্রেণীবিন্যাস অনুযায়ী তিনি কেবল রচনার কলাকৌশল ও আঙ্গিক নিয়ে ব্যস্ত থাকা সাহিত্যজগতের কবি নন, বরং জগতের মূল প্রস্রবণ থেকে কবিতার সারবস্তু তুলে আনা বিশ্বজগতের কবি। রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক প্রতিটি বিষয়কেই তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে কবিতায় রূপ দিয়েছেন। তাঁর কবিতায় সময় ও যাপিত জীবনের অভিজ্ঞান পরম দরদী ভাষায় জীবনের সৌন্দর্য ও অতলতাকে স্পর্শ করেছে। কবিত্বের বিকিরণের পাশাপাশি বলার সহজতা ও অভিজ্ঞতার অপূর্বতায় তাঁর কবিতা হয়ে উঠেছে জীবনের ছায়াতল।

প্রকাশিত এই কবিতামালায় কবির অন্তর্দৃষ্টি, জীবনবোধ এবং পারিপার্শ্বিকতার নানা রূপ শৈল্পিক সুষমায় ফুটে উঠেছে। সংকলিত কবিতাগুলোতে মরমী দুনিয়ার আগমন, সুন্দরের প্রারম্ভ, হৃদয়ের আকুতি এবং প্রকৃতির বিভিন্ন রূপ অত্যন্ত নিপুণভাবে উঠে এসেছে। জীবনের জল, সুন্দরের ঘন্টা, জতুগৃহ, বাঁশি ও নীচলের রূপরেখার মতো অনুষঙ্গগুলো তাঁর কাব্যভাষার অনন্য বৈশিষ্ট্য বহন করে। এই পঙক্তিগুলো কবির অন্তর্লোক এবং তাঁর সৃজনশীল মানস গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ের পরিচয় তুলে ধরে।

বাংলা কবিতার ধারায় ষাটের দশকের এই কবির আত্মপ্রকাশ এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম আজও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। অঞ্জলিশোভন খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত এই কবির সৃষ্টিকর্ম বাংলা পদ্যের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এই আদি রচনাগুলো পাঠকদের কেবল নস্টালজিক করবে না, বরং একজন প্রতিভাবান কবির সৃষ্টিপ্রক্রিয়ার শেকড় সন্ধানেও সাহায্য করবে।