প্রযুক্তি ডেস্ক: বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ চুরি হয়েছে। ব্লকচেইন বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস ও চেইনঅ্যানালাইসিসের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর গভীর রাতে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে এই চুরির মূল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। হ্যাকাররা নির্দিষ্ট কিছু ওয়ালেট থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওয়ালেটে অননুমোদিতভাবে সম্পদ স্থানান্তর করে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হ্যাকিং ইউনিট জড়িত রয়েছে।
নজিরবিহীন এই ঘটনার পর বাইন্যান্স কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের অর্থ উত্তোলন স্থগিত ঘোষণা করে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের শতভাগ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের মূল তহবিল সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধারে বিভিন্ন ব্লকচেইন প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের তহবিল ইতিমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। বাইন্যান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড টেং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লেনদেন ও উত্তোলন সেবা স্বাভাবিক করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের এক প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের সূত্রপাত ঘটে থাকতে পারে। হামলাকারীরা ওই কম্পিউটারের মাধ্যমে মূল নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ ওয়ালেটের ব্যক্তিগত ক্রিপ্টোগ্রাফিক চাবির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ল্যাপটপ হ্যাকিংয়ের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি বা ওয়ালেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
এই সাইবার হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বৈশ্বিক ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে তীব্র বিক্রির চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে বিটকয়েনের দাম কমে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন ৭৬ হাজার ৩৬৮ ডলারে নেমে আসে এবং ইথারের দামও দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছে যায়। তা ছাড়া ক্রিপ্টো-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের দরপতনের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল অঙ্কের অর্থ চুরির ঘটনা কেন্দ্রীভূত এক্সচেঞ্জের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। যদিও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জব্দ করা সম্ভব হয়েছে, তবে সামগ্রিক বাজারের স্থিতিশীলতা এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে। এই ঘটনা ক্রিপ্টো খাতের ইতিহাসে অন্যতম বড় সাইবার নিরাপত্তা সংকট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।



































