স্বাস্থ্য ডেস্ক: দীর্ঘদিন সুস্থ ও নিরোগ জীবনযাপনের জন্য পুষ্টিকর খাবার এবং নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি গভীর বন্ধুত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বা তীব্র একাকিত্ব মানুষের আয়ু কমিয়ে দিতে পারে এবং এটি একটি বড় শারীরিক ঝুঁকি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বায়োব্যাংকের পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষের স্বাস্থ্য তথ্যের ওপর পরিচালিত এক দীর্ঘমেয়াদী সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণার ফলাফলে জানা গেছে, যারা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন বা একাকিত্বে ভোগেন, তাদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও ডিমেনশার মতো দীর্ঘমেয়াদী রোগ ছাড়া সুস্থভাবে বেঁচে থাকার গড় আয়ু কম হয়। বিশেষজ্ঞরা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং একাকিত্বের মাঝে পার্থক্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। বিচ্ছিন্নতা হলো বাহ্যিক যোগাযোগহীনতা, আর একাকিত্ব হলো ভিড়ের মাঝেও ভেতরের শূন্যতাবোধ।
থেরাপিস্টদের মতে, গভীর সম্পর্কের অভাবে মানুষের শরীরে অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেস হরমোন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। এই দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। এছাড়া জীবনে ভালো বন্ধু বা আপনজন থাকলে তারা সবসময় শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের খোঁজখবর রাখেন, যা একা মানুষের ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।
একাকিত্বের এই ক্ষতিকর চক্র থেকে মুক্ত হয়ে সুস্থ দীর্ঘায়ু লাভের জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু কার্যকর কৌশল বাতলে দিয়েছেন। এর মধ্যে বিশ্বস্ত কারো সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করা, নিয়মিত শখের বা সামাজিক কাজে অংশ নেওয়া এবং অপরিচিতদের সঙ্গে মৃদু অভিবাদন বিনিময়ের মতো অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



































