ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

মানসিক স্বস্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করা কতটা নিরাপদ?

স্বাস্থ্য ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে মানসিক স্বাস্থ্যের পরামর্শ পাওয়ার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গভীর রাতে দুশ্চিন্তা বা মন খারাপের মুহূর্তে তাৎক্ষণিক ও বিনামূল্যে পরামর্শ পাওয়ার আকর্ষণে অনেকেই চ্যাটজিপিটির মতো চ্যাটবটের ওপর ভরসা করছেন। তবে প্রথাগত মনোবিদের বিকল্প হিসেবে এআই-এর এই ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা কতটা নিরাপদ ও কার্যকর, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিবন্ধিত মনোবিদ ডা. জিওফ্রে গোল্ড জানান, চিকিৎসকদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাঝের সময়ে রোগীরা এআই-কে নিজের ভাবনা যাচাইয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। ইতোমধ্যে চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথনের জেরে ক্ষতির অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে এআই নিয়ন্ত্রণে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। তবে শিকাগোভিত্তিক মনোচিকিৎসক ডা. আদিয়া গুডেনের মতে, এআই-কে পুরোপুরি বাতিল না করে এর সঠিক ও সীমিত ব্যবহার উপকারী হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই চ্যাটবট ২৪ ঘণ্টা হাতের নাগালে থাকায় রাতবিরেতে তাৎক্ষণিক মন হালকা করার ভার্চুয়াল আশ্রয় হিসেবে কাজ করতে পারে। এছাড়া জটিল সংকটের সমাধান না খুঁজে, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার নির্দিষ্ট কৌশল যেমন শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা জার্নালিংয়ের বিষয়বস্তু তৈরি করতে এটি কার্যকর। তবে বছরের পর বছর প্রশিক্ষণ নেওয়া একজন মানবিক পেশাদারের জায়গা চ্যাটবট কখনই নিতে পারে না বলে মনে করেন তারা।

চ্যাটবটের বড় সীমাবদ্ধতা হলো এতে মানবিক সম্পর্কের অভাব থাকে এবং এটি মানুষের কণ্ঠস্বর বা মুখের অভিব্যক্তি দেখে ভেতরের কষ্ট বুঝতে পারে না। সবসময় হাতের নাগালে থাকায় অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা মানুষকে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। তাছাড়া চ্যাটবট সাধারণত ব্যবহারকারীর পক্ষ নিয়ে কথা বলে এবং ক্ষতিকর চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করে না, যা প্রকৃত থেরাপিস্ট করে থাকেন।

পেশাদার থেরাপিস্টের মতো এআই-এর ক্ষেত্রে তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় এটি ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চ্যাটবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ, আবেগীয় সান্ত্বনার বদলে কৌশল খোঁজা এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি আত্মহত্যার প্রবণতা বা গুরুতর মানসিক সংকটে এআই-এর ওপর নির্ভর না করে দ্রুত পেশাদার চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া আবশ্যক।

জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় কি ইউক্রেইনের পালে হাওয়া দেবে?

মানসিক স্বস্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করা কতটা নিরাপদ?

প্রকাশিত ০৫:৫২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে মানসিক স্বাস্থ্যের পরামর্শ পাওয়ার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গভীর রাতে দুশ্চিন্তা বা মন খারাপের মুহূর্তে তাৎক্ষণিক ও বিনামূল্যে পরামর্শ পাওয়ার আকর্ষণে অনেকেই চ্যাটজিপিটির মতো চ্যাটবটের ওপর ভরসা করছেন। তবে প্রথাগত মনোবিদের বিকল্প হিসেবে এআই-এর এই ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা কতটা নিরাপদ ও কার্যকর, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিবন্ধিত মনোবিদ ডা. জিওফ্রে গোল্ড জানান, চিকিৎসকদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাঝের সময়ে রোগীরা এআই-কে নিজের ভাবনা যাচাইয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। ইতোমধ্যে চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথনের জেরে ক্ষতির অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে এআই নিয়ন্ত্রণে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। তবে শিকাগোভিত্তিক মনোচিকিৎসক ডা. আদিয়া গুডেনের মতে, এআই-কে পুরোপুরি বাতিল না করে এর সঠিক ও সীমিত ব্যবহার উপকারী হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই চ্যাটবট ২৪ ঘণ্টা হাতের নাগালে থাকায় রাতবিরেতে তাৎক্ষণিক মন হালকা করার ভার্চুয়াল আশ্রয় হিসেবে কাজ করতে পারে। এছাড়া জটিল সংকটের সমাধান না খুঁজে, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার নির্দিষ্ট কৌশল যেমন শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা জার্নালিংয়ের বিষয়বস্তু তৈরি করতে এটি কার্যকর। তবে বছরের পর বছর প্রশিক্ষণ নেওয়া একজন মানবিক পেশাদারের জায়গা চ্যাটবট কখনই নিতে পারে না বলে মনে করেন তারা।

চ্যাটবটের বড় সীমাবদ্ধতা হলো এতে মানবিক সম্পর্কের অভাব থাকে এবং এটি মানুষের কণ্ঠস্বর বা মুখের অভিব্যক্তি দেখে ভেতরের কষ্ট বুঝতে পারে না। সবসময় হাতের নাগালে থাকায় অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা মানুষকে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। তাছাড়া চ্যাটবট সাধারণত ব্যবহারকারীর পক্ষ নিয়ে কথা বলে এবং ক্ষতিকর চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করে না, যা প্রকৃত থেরাপিস্ট করে থাকেন।

পেশাদার থেরাপিস্টের মতো এআই-এর ক্ষেত্রে তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় এটি ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চ্যাটবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ, আবেগীয় সান্ত্বনার বদলে কৌশল খোঁজা এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি আত্মহত্যার প্রবণতা বা গুরুতর মানসিক সংকটে এআই-এর ওপর নির্ভর না করে দ্রুত পেশাদার চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া আবশ্যক।