ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সামান্তাদের বিদায়: তরুণদের রাজনীতির স্বপ্নে ভাঙন Logo জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করেছিল সেনাবাহিনী, ‘জাসদের দাবি সঠিক নয়’: সাখাওয়াত Logo হেঁটে সাড়ে ৫ কিলোমিটারের শোভাযাত্রায় তারেক রহমান Logo পরীমনিকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত হচ্ছে আয়োজন Logo অনুশীলনে বাংলাদেশ দল। ছবি: রুবেল জুবায়ের Logo ৭ নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব দিতে চাই: তারেক রহমান Logo ৭ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রচিন্তার সূচনাবিন্দু: জাবি উপাচার্য Logo ৭ কিলোমিটার পথ হেঁটে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে প্রধানমন্ত্রী Logo পাতলা চুল ঘন ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করার উপায় Logo যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় কি ইউক্রেইনের পালে হাওয়া দেবে?

সামান্তাদের বিদায়: তরুণদের রাজনীতির স্বপ্নে ভাঙন

মতামত ডেস্ক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ এক নতুন আশার সঞ্চার করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও পেশিশক্তির রাজনীতির কারণে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া অনীহা ভেঙে মেধাবী তরুণেরা রাষ্ট্র পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। সামান্তা শারমিন, তাসনিম জারা এবং তাজনূভা জাবীনদের মতো তরুণ নারীদের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া এই পরিবর্তনেরই একটি বড় প্রতীক হয়ে উঠেছিল। তাদের এই উপস্থিতি প্রমাণ করেছিল যে পরিবারতন্ত্র বা পেশিশক্তি ছাড়াও নীতি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাজনীতি করা সম্ভব।

তবে সম্প্রতি সামান্তা শারমিন, তাসনিম জারা ও তাজনূভা জাবীনদের এনসিপি থেকে পদত্যাগ করার ঘটনা তরুণ সমাজের সেই আশায় বড় আঘাত হেনেছে। জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন, নির্বাচনি কৌশল, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং কাউন্সিল ছাড়াই সাংগঠনিক পুনর্গঠন—এমন নানা মতপার্থক্যের জের ধরে তারা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘদিন দলের ভেতরে নানাভাবে অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে তারা শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ান, যা নতুন রাজনৈতিক ধারার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, নবীন একটি রাজনৈতিক দলের জন্য দেশব্যাপী সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি এবং নির্বাচনি লড়াইয়ে টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন কাজ। দলের নেতৃত্ব বৃহত্তর জোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তটিকে নিজেদের নির্বাচনি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবে দেখছে। কিন্তু স্বল্পমেয়াদি এই রাজনৈতিক কৌশল যদি দীর্ঘমেয়াদি আদর্শিক পরিচয় ও সমর্থকদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তবে তা নতুন রাজনৈতিক শক্তির জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, তরুণেরা যদি বারবার আদর্শিক সংকটের মুখে পড়ে রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়েন, তবে রাষ্ট্র ফের পুরোনো ক্ষমতাকাঠামোর হাতেই বন্দি হয়ে পড়বে। সামান্তা বা অন্যদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ছাপিয়ে মূল প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র এই মেধাবী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন তরুণদের ধরে রাখার মতো পরিবেশ তৈরি করতে পারছে কি না। জুলাইয়ের পর তৈরি হওয়া এই রাজনৈতিক সম্ভাবনা হারিয়ে গেলে তা সামগ্রিকভাবে গণতন্ত্র ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্যই বড় ক্ষতি ডেকে আনবে।

জনপ্রিয়

সামান্তাদের বিদায়: তরুণদের রাজনীতির স্বপ্নে ভাঙন

সামান্তাদের বিদায়: তরুণদের রাজনীতির স্বপ্নে ভাঙন

প্রকাশিত ০৮:২২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

মতামত ডেস্ক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ এক নতুন আশার সঞ্চার করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও পেশিশক্তির রাজনীতির কারণে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া অনীহা ভেঙে মেধাবী তরুণেরা রাষ্ট্র পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। সামান্তা শারমিন, তাসনিম জারা এবং তাজনূভা জাবীনদের মতো তরুণ নারীদের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া এই পরিবর্তনেরই একটি বড় প্রতীক হয়ে উঠেছিল। তাদের এই উপস্থিতি প্রমাণ করেছিল যে পরিবারতন্ত্র বা পেশিশক্তি ছাড়াও নীতি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাজনীতি করা সম্ভব।

তবে সম্প্রতি সামান্তা শারমিন, তাসনিম জারা ও তাজনূভা জাবীনদের এনসিপি থেকে পদত্যাগ করার ঘটনা তরুণ সমাজের সেই আশায় বড় আঘাত হেনেছে। জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন, নির্বাচনি কৌশল, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং কাউন্সিল ছাড়াই সাংগঠনিক পুনর্গঠন—এমন নানা মতপার্থক্যের জের ধরে তারা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘদিন দলের ভেতরে নানাভাবে অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে তারা শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ান, যা নতুন রাজনৈতিক ধারার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, নবীন একটি রাজনৈতিক দলের জন্য দেশব্যাপী সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি এবং নির্বাচনি লড়াইয়ে টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন কাজ। দলের নেতৃত্ব বৃহত্তর জোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তটিকে নিজেদের নির্বাচনি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবে দেখছে। কিন্তু স্বল্পমেয়াদি এই রাজনৈতিক কৌশল যদি দীর্ঘমেয়াদি আদর্শিক পরিচয় ও সমর্থকদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তবে তা নতুন রাজনৈতিক শক্তির জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, তরুণেরা যদি বারবার আদর্শিক সংকটের মুখে পড়ে রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়েন, তবে রাষ্ট্র ফের পুরোনো ক্ষমতাকাঠামোর হাতেই বন্দি হয়ে পড়বে। সামান্তা বা অন্যদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ছাপিয়ে মূল প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র এই মেধাবী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন তরুণদের ধরে রাখার মতো পরিবেশ তৈরি করতে পারছে কি না। জুলাইয়ের পর তৈরি হওয়া এই রাজনৈতিক সম্ভাবনা হারিয়ে গেলে তা সামগ্রিকভাবে গণতন্ত্র ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্যই বড় ক্ষতি ডেকে আনবে।