পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সনাতন ধর্মের শিক্ষার্থীসহ প্রথমবারের মতো প্রায় ১৬ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী একসঙ্গে ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।
রোববার (১লা মার্চ) বাদ আসর থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনে ছাত্রীদের জন্য শহিদ মিনার চত্বরে এবং ছাত্রদের জন্য কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং মসজিদ প্রাঙ্গণে ইফতার জায়গা নির্ধারণ করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল ৫ টার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা রাকসুর দেয়া খাবারের নিদিষ্ট টোকেন দেখিয়ে দলে দলে নির্ধারিত স্থানে জড়ো হতে থাকেন। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে বসার জায়গা ঠিক করছেন, কেউ আবার বন্ধুদের সাথে খুনসুটিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পুরো এলাকায় ছিল শান্ত ও ধর্মীয় আবহ। ইফতারের নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। সারিবদ্ধভাবে বসে তারা আজানের অপেক্ষায় থাকেন।
ইফতার মাহফিল আসা ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাহিদা বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে রাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত। ক্যাম্পাসের খোলা আকাশের নিচে সহপাঠীদের সঙ্গে একসাথে বসে ইফতার করা শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, এটি আমাদের ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্মানের এক সুন্দর প্রকাশ।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ভালো লেগেছে—এ আয়োজনটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। বিভিন্ন ধর্ম, মত ও সংস্কৃতির শিক্ষার্থীরা একসাথে বসে ইফতার ভাগাভাগি করেছে। একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে আমি নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সম্মানজনক পরিবেশে অংশ নিতে পেরেছি—এটা আমার কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী উৎসব রায় বলেন, ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে বসে ইফতার করার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি ক্যাম্পাসে সম্প্রীতির এক সুন্দর দৃষ্টান্ত, রাকসুর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই”
ইফতারের বিষয়ে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য আমারা আলাদা ইফতারের আয়োজন করেছি। প্রায় ১৬ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা আয়োজন করেছি। আশা করছি সবকিছু ঠিকঠাকভাবে হবে। তবে কোন কারনে যদি খাবারে কম পড়ে তার জন্য অগ্রীম ক্ষমা চাচ্ছি। সকলে ভাগাভাগি করে নিয়ে সম্প্রতি দৃষ্টান্ত রাখবে এটাই প্রত্যাশা ”
ইফতারের সার্বিক বিষয়ের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “রাকসুর পক্ষ থেকে আমরা ক্যাম্পাসে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছি। সনাতন ধর্মের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ১৬ হাজার অধিক শিক্ষার্থী একসঙ্গে ইফতার করেছে—এটি সত্যিই একটি অনন্য আয়োজন। ভবিষ্যতেও আমরা এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে চাই।
ফান্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক যেসব ভায়েরা আছে, যারা রাকসুকে ভালোবাসে তারাই এই আয়োজনে সহায়তা করেছে। ফান্ডের প্রায় সকল অর্থই ইফতারির জন্য খরচ করা হয়েছে।
ইফতার মাহফিলে বিএনসিসি, স্কাউট, কমিউনিটি পুলিশিংসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজনটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
উল্লেখ্য, ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে সংক্ষিপ্ত দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।
সায়েম /রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়














