ঢাকা ০৪:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

কুবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য আটক

কুমিল্লা শহরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য কর্তৃক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ( কুবি) শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগে ঘটনার সাথে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন ইসফাত ভুঁইয়া, ইরফান চৌধুরী সাদিক ও কাজী অনিত।

বুধবার ( ০৪ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকে তাদের আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই টিটু কুমার নাথ।

জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. হোসাইন ও ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী সায়েদ হাসান কুমিল্লা শহরের ধর্মসাগর পাড় এলাকা দিয়ে হাঁটার সময় শপিং ব্যাগের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু করে। একপর্যায়ে তারা উক্ত শিক্ষার্থীদের মারধর করে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং গাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছিলো। এমন সময় ফৌজদারি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দেখা যায়। তখন বাস থেকে শিক্ষার্থীরা নেমে তাদেরকে উদ্ধার করতে গেলে আবারও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে শিক্ষার্থীদের উপর। এতে আহত হন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান শিপন।

পরবর্তীতে কিশোর গ্যাংয়ের তিন জন সদস্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে তাদেরকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. হোসাইন বলেন, ‘ আমি ছোট বোনের জন্য শপিং করে ফিরছিলাম তখন আমার শপিং ব্যাগ নাকি কার গায়ে লাগছে। এটা নিয়া একজন ছেলে আমার পেছনে পেছনে এসে আমাকে মারছে। এরপর আমাকে এবং আমার বন্ধুকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দেখে আমার বন্ধু গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে বাস থেকে শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে আসে। তারা আসার পরেও ছিনতাইকারীরা পাঁচ-ছয়জন চলে আসে এবং তাদের হাতে দা এবং ছুড়ি ছিল। আমরা সংখ্যায় বেশি থাকাতে বড় কোনো দূর্ঘটনা ঘটেনি।’

আতিকুর রহমান শিপন বলেন, ‘আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাইকে মারার কারণে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের কাছে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তারা আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারপর আমি তাদের বাধা দিতে গেলে, একজন ছেলে আমাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এতে আমার হাত কেটে যায়। তারপর আমরা তাদের তিনজনকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসি।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের উপর কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা হামলা করেছে। শিক্ষার্থীরা তাদেরকে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তাদেরকে পুলিশে দেওয়া হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদি হয়ে মামলা করবে।’

কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই টিটু কুমার নাথ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদি হয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন তারা।’

জনপ্রিয়

মেকআপ ও ঘরের কাজের কারণে পুরুষদের চেয়ে বেশি সময় লাগে: জাপানের প্রধানমন্ত্রী

কুবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য আটক

প্রকাশিত ০৭:০৩:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লা শহরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য কর্তৃক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ( কুবি) শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগে ঘটনার সাথে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন ইসফাত ভুঁইয়া, ইরফান চৌধুরী সাদিক ও কাজী অনিত।

বুধবার ( ০৪ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকে তাদের আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই টিটু কুমার নাথ।

জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. হোসাইন ও ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী সায়েদ হাসান কুমিল্লা শহরের ধর্মসাগর পাড় এলাকা দিয়ে হাঁটার সময় শপিং ব্যাগের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু করে। একপর্যায়ে তারা উক্ত শিক্ষার্থীদের মারধর করে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং গাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছিলো। এমন সময় ফৌজদারি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দেখা যায়। তখন বাস থেকে শিক্ষার্থীরা নেমে তাদেরকে উদ্ধার করতে গেলে আবারও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে শিক্ষার্থীদের উপর। এতে আহত হন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান শিপন।

পরবর্তীতে কিশোর গ্যাংয়ের তিন জন সদস্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে তাদেরকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. হোসাইন বলেন, ‘ আমি ছোট বোনের জন্য শপিং করে ফিরছিলাম তখন আমার শপিং ব্যাগ নাকি কার গায়ে লাগছে। এটা নিয়া একজন ছেলে আমার পেছনে পেছনে এসে আমাকে মারছে। এরপর আমাকে এবং আমার বন্ধুকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দেখে আমার বন্ধু গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে বাস থেকে শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে আসে। তারা আসার পরেও ছিনতাইকারীরা পাঁচ-ছয়জন চলে আসে এবং তাদের হাতে দা এবং ছুড়ি ছিল। আমরা সংখ্যায় বেশি থাকাতে বড় কোনো দূর্ঘটনা ঘটেনি।’

আতিকুর রহমান শিপন বলেন, ‘আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাইকে মারার কারণে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের কাছে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তারা আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারপর আমি তাদের বাধা দিতে গেলে, একজন ছেলে আমাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এতে আমার হাত কেটে যায়। তারপর আমরা তাদের তিনজনকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসি।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের উপর কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা হামলা করেছে। শিক্ষার্থীরা তাদেরকে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তাদেরকে পুলিশে দেওয়া হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদি হয়ে মামলা করবে।’

কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই টিটু কুমার নাথ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদি হয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন তারা।’