দেশের সামরিক সক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলোর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই সরঞ্জামগুলোর একটি বড় অংশ দেশটির সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে যেকোনো সম্ভাব্য বাহ্যিক হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালির ভূরাজনীতিতে তেহরানের কৌশলগত অবস্থান এবং বিশাল জ্বালানি সম্পদের ভাণ্ডারের কারণে অতীতেও দেশটি বিভিন্ন ধরনের আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং নৌবাহিনীর শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে প্রতিপক্ষ এই আক্রমণগুলো চালালেও তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি বলে দৃঢ় দাবি করেছেন ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তা।
সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সুরক্ষিত রাখার অংশ হিসেবে গত কয়েক বছর ধরেই সুপরিকল্পিতভাবে এই ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চালিয়েছে তেহরান। দেশের কৌশলগত প্রতিরক্ষা শক্তির একটি বড় অংশকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ফলে প্রতিপক্ষের সামরিক পরিকল্পনা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। বিশেষ করে ইরানের অস্ত্র উৎপাদন এবং সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার যে গোপন পরিকল্পনা শত্রুদেশগুলোর ছিল, তা এই পদক্ষেপে নস্যাৎ হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শানিত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য আগ্রাসন দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তেহরান তাদের সামরিক নীতিতে এ ধরনের পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন অব্যাহত রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

































