অপরাধ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘটা বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের চার সদস্যের সবাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত ১৬ অক্টোবর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রনি মিয়া নামের এক যুবকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই ট্র্যাজেডির পরিসমাপ্তি ঘটে। এর আগে গত ১৪ ও ১৫ অক্টোবর একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীসহ আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া এই চারজনের সবার শরীর ও শ্বাসনালি মারাত্মকভাবে পুড়ে গিয়েছিল।
গত ১০ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ভবনের ওই কক্ষে গ্যাসের চাপ বাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত কম্প্রেসার লাইনে গ্যাস লিকেজ থেকেই মূলত এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছিল। আকস্মিক এই বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে আসেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার এই চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে দগ্ধ ব্যক্তিদের সবার অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। চিকিৎসকরা তাদের জীবন বাঁচানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু কারো শরীরেই সুস্থ হয়ে ওঠার মতো অবস্থা বাকি ছিল না।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রনি মিয়া ছিলেন ওই ভবনটির তত্ত্বাবধায়ক, যার শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বিস্ফোরণে মারা যাওয়া অন্য তিনজন হলেন রোজিনা আক্তার, তার স্বামী শরীফ হোসেন এবং রোজিনার ছোট ভাই রিয়াজ। তাদের শরীরের যথাক্রমে ৬০, ৪০ এবং ৪০ শতাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছিল। সবারই শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের কাউকেই শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।





































