ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতির নোবেল, আস্থার সংকট ও বাংলাদেশের বাস্তবতা

মতামত ডেস্ক: সম্প্রতি প্রকাশিত অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ডের গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অর্থব্যবস্থা শুধু টাকার অংক নয় বরং মানুষের আস্থার ওপর নির্ভরশীল। মানুষ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী ভাবছে, তার ওপর ভিত্তি করেই মূলত আজকের খরচ, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে যে সাধারণ মানুষ এই আস্থা কোথায় খুঁজে পাবে। বাজার, নীতিনির্ধারক কিংবা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর ভরসা রাখার পরিবেশ এখানে অনুপস্থিত।

পরিসংখ্যানের আড়ালে মানুষের মনোজগতে কাজ করে নানা ধরনের আশা, ভয় ও অনিশ্চয়তা। চাকরি হারানোর ভয়ে একজন শ্রমিক বর্তমানের খরচ কমিয়ে দেন, আবার নীতি পরিবর্তনের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে যান না। একটি সাধারণ পরিবার দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের আশঙ্কায় বড় কোনো পরিকল্পনা করতে পারে না। কোনো একটি কারখানায় অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তার নেতিবাচক প্রভাব আশপাশের পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে পড়ে।

বাজারদর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও আস্থার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যখন সংশয় তৈরি হয়, তখন বাজারে কৃত্রিম চাপ ও মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। সরকারের ঘোষণাসমূহ এবং বাজারের বাস্তব চিত্রের মধ্যে যখন ফারক থাকে, তখন মানুষের বিশ্বাস দ্রুত ক্ষয়ে যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায় স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতার অভাবের কারণে ব্যবসায়ীরাও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে ব্যর্থ হন।

রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যর্থতা এবং জবাবদিহির অভাব দেশের সামগ্রিক আস্থাকে আরও দুর্বল করে তুলছে। আইনের শাসন ও সঠিক নীতি বাস্তবায়নের ঘাটতি থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের ভরসা কমে যায়। পরিশেষে, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই কেবল অর্থনীতিতে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

জনপ্রিয়

ফিটনেস ট্র্যাকার ব্যবহারে বাড়ছে মানসিক চাপ ও লজ্জা: গবেষণা

অর্থনীতির নোবেল, আস্থার সংকট ও বাংলাদেশের বাস্তবতা

প্রকাশিত ০২:০৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মতামত ডেস্ক: সম্প্রতি প্রকাশিত অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ডের গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অর্থব্যবস্থা শুধু টাকার অংক নয় বরং মানুষের আস্থার ওপর নির্ভরশীল। মানুষ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী ভাবছে, তার ওপর ভিত্তি করেই মূলত আজকের খরচ, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে যে সাধারণ মানুষ এই আস্থা কোথায় খুঁজে পাবে। বাজার, নীতিনির্ধারক কিংবা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর ভরসা রাখার পরিবেশ এখানে অনুপস্থিত।

পরিসংখ্যানের আড়ালে মানুষের মনোজগতে কাজ করে নানা ধরনের আশা, ভয় ও অনিশ্চয়তা। চাকরি হারানোর ভয়ে একজন শ্রমিক বর্তমানের খরচ কমিয়ে দেন, আবার নীতি পরিবর্তনের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে যান না। একটি সাধারণ পরিবার দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের আশঙ্কায় বড় কোনো পরিকল্পনা করতে পারে না। কোনো একটি কারখানায় অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তার নেতিবাচক প্রভাব আশপাশের পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে পড়ে।

বাজারদর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও আস্থার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যখন সংশয় তৈরি হয়, তখন বাজারে কৃত্রিম চাপ ও মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। সরকারের ঘোষণাসমূহ এবং বাজারের বাস্তব চিত্রের মধ্যে যখন ফারক থাকে, তখন মানুষের বিশ্বাস দ্রুত ক্ষয়ে যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায় স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতার অভাবের কারণে ব্যবসায়ীরাও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে ব্যর্থ হন।

রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যর্থতা এবং জবাবদিহির অভাব দেশের সামগ্রিক আস্থাকে আরও দুর্বল করে তুলছে। আইনের শাসন ও সঠিক নীতি বাস্তবায়নের ঘাটতি থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের ভরসা কমে যায়। পরিশেষে, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই কেবল অর্থনীতিতে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।