ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

অর্থাভাবে ধুঁকছে গবেষণাকেন্দ্র, অনিশ্চয়তায় সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরি

স্বাস্থ্য ডেস্ক: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে অবস্থিত দেশের একমাত্র ভেনম রিসার্চ সেন্টার বর্তমানে তীব্র অর্থ সংকটের কারণে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রায় সাড়ে আট বছর আগে শুরু হওয়া এই গবেষণা কেন্দ্রটি গত আড়াই বছর ধরে কোনো ধরনের সরকারি অর্থ বরাদ্দ পায়নি। সরকারি অনুদান বন্ধ থাকায় গবেষকদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও ধারদেনার ওপর নির্ভর করে কোনোমতে প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ সাপের কামড়ে প্রাণ হারায় এবং প্রায় আট লাখ ৯০ হাজার মানুষ দংশনের শিকার হয়। সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় দেশে মূলত আমদানিকৃত পলিভ্যালেন্ট অ্যান্টিভেনম ব্যবহার করা হয়, যা সব প্রজাতির বিষধর সাপের বিরুদ্ধে কাজ করে না। এই সংকট মোকাবিলায় নিজস্ব অ্যান্টিভেনম তৈরির উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে এই গবেষণা কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

পাঁচ বছর মেয়াদী এই প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পর থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি আটকে রয়েছে। অর্থ ও বরাদ্দের অভাবে বর্তমানে কেন্দ্রে থাকা ১১ প্রজাতির মোট ৩৭০টি সাপ এবং ১ হাজার ৭০০ গ্রাম সাপের বিষের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে। সাপের খাবার হিসেবে নিয়মিত ইঁদুর সরবরাহ ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় গবেষণার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

গবেষকরা ইতিমধ্যে রাসেলস ভাইপার সাপের বিষ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের পর মুরগি ও ইঁদুরের শরীরে সফলভাবে প্রয়োগ করে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রাথমিক সাফল্য অর্জন করেছেন। পরবর্তী ধাপের গবেষণা ও অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে তা থমকে আছে। সংশ্লিষ্টরা এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও গবেষণা কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে অবিলম্বে সরকারি উদ্যোগ ও প্রকল্প অনুমোদনের দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয়

গোপনে আলভারেসের সঙ্গে যোগাযোগ করায় বার্সেলোনার শাস্তি

অর্থাভাবে ধুঁকছে গবেষণাকেন্দ্র, অনিশ্চয়তায় সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরি

প্রকাশিত ০২:০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে অবস্থিত দেশের একমাত্র ভেনম রিসার্চ সেন্টার বর্তমানে তীব্র অর্থ সংকটের কারণে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রায় সাড়ে আট বছর আগে শুরু হওয়া এই গবেষণা কেন্দ্রটি গত আড়াই বছর ধরে কোনো ধরনের সরকারি অর্থ বরাদ্দ পায়নি। সরকারি অনুদান বন্ধ থাকায় গবেষকদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও ধারদেনার ওপর নির্ভর করে কোনোমতে প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ সাপের কামড়ে প্রাণ হারায় এবং প্রায় আট লাখ ৯০ হাজার মানুষ দংশনের শিকার হয়। সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় দেশে মূলত আমদানিকৃত পলিভ্যালেন্ট অ্যান্টিভেনম ব্যবহার করা হয়, যা সব প্রজাতির বিষধর সাপের বিরুদ্ধে কাজ করে না। এই সংকট মোকাবিলায় নিজস্ব অ্যান্টিভেনম তৈরির উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে এই গবেষণা কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

পাঁচ বছর মেয়াদী এই প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পর থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি আটকে রয়েছে। অর্থ ও বরাদ্দের অভাবে বর্তমানে কেন্দ্রে থাকা ১১ প্রজাতির মোট ৩৭০টি সাপ এবং ১ হাজার ৭০০ গ্রাম সাপের বিষের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে। সাপের খাবার হিসেবে নিয়মিত ইঁদুর সরবরাহ ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় গবেষণার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

গবেষকরা ইতিমধ্যে রাসেলস ভাইপার সাপের বিষ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের পর মুরগি ও ইঁদুরের শরীরে সফলভাবে প্রয়োগ করে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রাথমিক সাফল্য অর্জন করেছেন। পরবর্তী ধাপের গবেষণা ও অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে তা থমকে আছে। সংশ্লিষ্টরা এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও গবেষণা কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে অবিলম্বে সরকারি উদ্যোগ ও প্রকল্প অনুমোদনের দাবি জানিয়েছেন।