ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬

ছাত্রী হলে আগুনে শিক্ষার্থী আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে নারাজ প্রভোস্ট

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলে গ্যাসের চুলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে হলের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় হল প্রভোস্টের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলি না।’‎

‎আহত শিক্ষার্থী দর্শন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের। তাঁর ভাষ্য, রান্না করার সময় হঠাৎ গ্যাসের চুলা থেকে আগুন বড় আকার ধারণ করে। আগুন থেকে বাঁচতে দ্রুত সরে যাওয়ার সময় তাঁর ডান হাতে আঘাত লাগে এবং হাতের হাড়ের সন্ধি সরে যায় (ডিসলোকেশন)। পরে তিনি ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

‎জানা যায়, ‎প্রায় ১০ মিনিট ধরে আগুন জ্বলতে থাকে। পরে হলের আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

‎ঘটনার পর চুলা মেরামত করতে আসা এক মিস্ত্রি জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি গ্যাসের মূল চাবি দিয়ে লিকেজ দেখতে পান। চুলার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দুর্বল হয়ে পড়ায় গ্যাস লিক হচ্ছিল বলে তাঁর ধারণা।

‎এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট ও ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উম্মে ফারহানার বক্তব্য জানতে ফোনকল করা হয়। প্রথমে তিনি জানান, ঘটনার সময় ক্যাম্পাসে না থাকায় হাউস টিউটরদের কাছ থেকে বিষয়টি জেনেছেন। সর্বশেষ তথ্য তাঁর পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

‎তবে কথোপকথনের একপর্যায়ে কল রেকর্ডিংয়ের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। সাংবাদিকের অনুমতি ছাড়া কল রেকর্ড করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘এটা সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী।’ একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য প্রকাশ না করার কথা জানান। এরপর তিনি বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলি না।’

‎পরবর্তীতে রইসুল আরাফাত নামের আরেক সাংবাদিক কল করলে শুরুতেই কল রেকর্ডের বিষয়টি জানিয়ে তাঁর অনুমতি চান। এ সময় হল প্রভোস্ট আবারও বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলি না’।

‎এ সময় উম্মে ফারহানা জানান, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং সরাসরি পরিস্থিতি না দেখে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে পরবর্তী কথোপকথনে হলের গ্যাসলাইন স্থাপন ও চুলার যন্ত্রাংশ নিয়ে কথা বলেন তিনি।

‎হল প্রভোস্টের দাবি, দোলনচাঁপা হলে আগে গ্যাসের ব্যবস্থা ছিল না। ডাইনিং পরিচালনা নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প হিসেবে সম্প্রতি গ্যাসের ব্যবস্থা করা হয়।

‎এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজের ও অবকাঠামোর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে হল প্রভোস্ট বলেন, ‘আপনি তো জাতীয় কবির শিক্ষার্থী, আপনার জানাই উচিত যে, কিরকম ধরনের জিনিসপত্র দিয়ে আসলে কনস্ট্রাকশনগুলো হয়। গ্যাসলাইন স্থাপনের এক বছরও হয়নি। এটি মেরামতের বিষয় নয়; ব্যবহারের সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

‎উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দোলনচাঁপা হলের চার তলার একটি কক্ষে এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে জুনিয়র রুমমেটকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিষয়ে বক্তব্য জানতে হল প্রভোস্ট উম্মে ফারহানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন সাংবাদিকেরা। সে সময়ও সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সে সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক কিছু জানি, যা আপনাদের বলব না। আপনাদের সাংবাদিকগিরি একধরনের ফাতরামি করা ছাড়া কিছুই না।’

জনপ্রিয়

নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গা সংকট: শামা ওবায়েদ

ছাত্রী হলে আগুনে শিক্ষার্থী আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে নারাজ প্রভোস্ট

প্রকাশিত ১১:৪৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলে গ্যাসের চুলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে হলের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় হল প্রভোস্টের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলি না।’‎

‎আহত শিক্ষার্থী দর্শন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের। তাঁর ভাষ্য, রান্না করার সময় হঠাৎ গ্যাসের চুলা থেকে আগুন বড় আকার ধারণ করে। আগুন থেকে বাঁচতে দ্রুত সরে যাওয়ার সময় তাঁর ডান হাতে আঘাত লাগে এবং হাতের হাড়ের সন্ধি সরে যায় (ডিসলোকেশন)। পরে তিনি ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

‎জানা যায়, ‎প্রায় ১০ মিনিট ধরে আগুন জ্বলতে থাকে। পরে হলের আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

‎ঘটনার পর চুলা মেরামত করতে আসা এক মিস্ত্রি জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি গ্যাসের মূল চাবি দিয়ে লিকেজ দেখতে পান। চুলার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দুর্বল হয়ে পড়ায় গ্যাস লিক হচ্ছিল বলে তাঁর ধারণা।

‎এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট ও ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উম্মে ফারহানার বক্তব্য জানতে ফোনকল করা হয়। প্রথমে তিনি জানান, ঘটনার সময় ক্যাম্পাসে না থাকায় হাউস টিউটরদের কাছ থেকে বিষয়টি জেনেছেন। সর্বশেষ তথ্য তাঁর পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

‎তবে কথোপকথনের একপর্যায়ে কল রেকর্ডিংয়ের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। সাংবাদিকের অনুমতি ছাড়া কল রেকর্ড করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘এটা সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী।’ একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য প্রকাশ না করার কথা জানান। এরপর তিনি বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলি না।’

‎পরবর্তীতে রইসুল আরাফাত নামের আরেক সাংবাদিক কল করলে শুরুতেই কল রেকর্ডের বিষয়টি জানিয়ে তাঁর অনুমতি চান। এ সময় হল প্রভোস্ট আবারও বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলি না’।

‎এ সময় উম্মে ফারহানা জানান, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং সরাসরি পরিস্থিতি না দেখে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে পরবর্তী কথোপকথনে হলের গ্যাসলাইন স্থাপন ও চুলার যন্ত্রাংশ নিয়ে কথা বলেন তিনি।

‎হল প্রভোস্টের দাবি, দোলনচাঁপা হলে আগে গ্যাসের ব্যবস্থা ছিল না। ডাইনিং পরিচালনা নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প হিসেবে সম্প্রতি গ্যাসের ব্যবস্থা করা হয়।

‎এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজের ও অবকাঠামোর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে হল প্রভোস্ট বলেন, ‘আপনি তো জাতীয় কবির শিক্ষার্থী, আপনার জানাই উচিত যে, কিরকম ধরনের জিনিসপত্র দিয়ে আসলে কনস্ট্রাকশনগুলো হয়। গ্যাসলাইন স্থাপনের এক বছরও হয়নি। এটি মেরামতের বিষয় নয়; ব্যবহারের সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

‎উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দোলনচাঁপা হলের চার তলার একটি কক্ষে এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে জুনিয়র রুমমেটকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিষয়ে বক্তব্য জানতে হল প্রভোস্ট উম্মে ফারহানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন সাংবাদিকেরা। সে সময়ও সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সে সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক কিছু জানি, যা আপনাদের বলব না। আপনাদের সাংবাদিকগিরি একধরনের ফাতরামি করা ছাড়া কিছুই না।’