৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ভার্চ্যুয়াল কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র মজুমদার ও প্রক্টর ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, ছাত্র প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রক্টর ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “এই দেশ যখন নানা দিক থেকে জর্জরিত ছিল, দেশে যখন সুশাসন ছিল না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছিল এবং জাতি যখন দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল, তখন চালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে পুরো জাতির ভাগ্য কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তিনি দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে গিয়েছিলেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন।”
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র মজুমদার বলেন, “আমাদের দুর্ভাগ্য, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্র পরিচালনায় বেশিদিন পাইনি। আজকের বাংলাদেশের যে সমস্যা, সেটি হচ্ছে ভেদাভেদ। আমরা যদি এই ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারি, তাহলে দেশের উন্নতি অবশ্যই সম্ভব। আর আমরা যদি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন ও আদর্শ লালন করতে পারি এবং সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারব বলে আমি আশা করছি।”
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, “৭ নভেম্বর ঠিক করা হয়েছিল বাংলাদেশ কোন পথে যাবে। আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী আছি, তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য ঠিকমতো পালন করলে দেশের সুনাম অর্জনে অবদান রাখতে পারব। আমাদের ইতিহাস জানতে হবে এবং ইতিহাসকে মাথায় রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। শিক্ষার্থীদের বলব, তারা যেন প্রকৃত ইতিহাস জানে ও ধারণ করে। সেই ইতিহাসকে সামনে রেখেই আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ এমন হোক, যেখানে জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি দেশের নেতৃত্ব ও সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সামনের দিকে এগিয়ে যেতে আমরা ভূমিকা রাখতে পারি।”
ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন বলেন, “আজকের আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল সাম্রাজ্যবাদবিরোধী, আধিপত্যবাদবিরোধী ও সার্বভৌম বাংলাদেশের ধারণাকে সামনে রেখে কাজ করা। দল-মতনির্বিশেষে এই বাংলাদেশ আমাদের সবার। ৭ নভেম্বরের শিক্ষা ধারণ করে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে আমরা যেন সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে পারি।”
































